জমির বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের শান্তিনগর এলাকার জোহারা খাতুনকে (৮০) কুপিয়ে খুন করেন তারই ছোট ছেলে জামির খাঁ (৪০)। জমি নিয়ে ৩৬ বছর ধরে চলা বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে নিজেরা সুবিধা নিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা জামিরের ঘর থেকে উদ্ধারের পর সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে।

পরে জামিরকে তার পরিবারের লোকজনের সামনে মুখোমুখি করার পর তিনি এই নির্মম হত্যার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে বৃদ্ধা জোহরা খাতুনকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি শান্তিনগর এলাকার প্রয়াত রশিদ খাঁর স্ত্রী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জামিরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মৃত রশিদ খাঁর পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী আত্মীয়রা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিপক্ষের তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে পুলিশ জামিরকেও আটক করে।

স্থানীয়রা জানান, রশিদ খাঁর সঙ্গে প্রতিবেশী আত্মীয় বজলু খাঁর পরিবারের জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিল। আদালতের রায় পেয়ে রশিদ খাঁর পক্ষের লোকজন জায়গাটি দখলে নেয়। রবিবার দুপুরে ওই জায়গার সীমানা প্রাচীর ভেঙে রশিদ খাঁর পরিবারের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ।

শান্তিনগর এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মো. ঈশান জানান, জমি নিয়ে বিরোধে চাচাতো নাতিসহ অন্যরা এ হামলা চালায় বলে রশিদ খাঁর পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন।

‘পুলিশ তাৎক্ষণিক তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে অন্য পক্ষের দু’জনকে আটক করে নিয়ে যায় বলে জানতে পেরেছি। ঘটনার পর পুলিশ হত্যার রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা নিহতের বাড়িতে পাওয়া গেলে পুলিশের সন্দেহের দানা বাঁধে। জামিরকে আটকের পরই ঘটনার মোড় ভিন্ন দিকে ঘুরে যায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাকে তার পরিবারের লোকজনের সামনে এনে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

জামির খাঁ পুলিশকে জানান, জায়গা নিয়ে বিরোধে তারা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে উঠে। আদালতের রায় পেলেও তারা ভোগদখল করতে পারছিলেন না। রবিবার প্রতিপক্ষ বাড়ির দেয়াল ভাঙলে তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য হুট করে রাগের মাথায় তিনি তার বৃদ্ধা মাকে হত্যা করেন।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান দৈনিক দেশ রূপান্তরকে জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে পাঠানো হলে সোমবার দুপুরে জামিরের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

তিনি আরও জানান, আটক প্রতিপক্ষের তিনজনের বিরুদ্ধে বেআইনি দলবদ্ধ হয়ে আক্রমণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।