করোনা মহামারীতে যারপরনাই আমরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। কেউ বাবা হারিয়েছেন, কেউ মাকে চিরদিনের মতো বিদায় দিয়েছেন, কেউ সন্তানকে কবরে রেখে এসেছেন, কেউ প্রিয়তম স্বামী হারা হয়ে অঝোরে কাঁদছেন। ভাই হারিয়েছেন বোনকে। স্বজনদের বুকে কেবল কান্না আর বেদনা। তার ওপরে প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রাম। জীবন তো চালাতে হবে। এত বেদনার মধ্যেও আমাদের বুকে কষ্টের পাহাড় নিয়ে কাজকর্ম করতে হয়। সেখানেও কি আমরা খুব ভালো আছি? কেউ চাকরি হারিয়েছেন, করোনাকালীন কারও বেতন হয়নি, কারও বাড়িভাড়া বাকি পড়েছে, সন্তানের স্কুল-কলেজের বেতন বাকি রয়েছে। হাতে চলার মতো প্রয়োজনীয় টাকা নেই। কেউ ঋণী হয়েছেন, ঋণ শোধ করতে পারছেন না, আরও নানা সমস্যা আমাদের সামলাতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ছেন, কান্নাকাটি করছেন। কী অসম্ভব যাতনায় ভুগছি আমরা। আমরা কেউই ভালো নেই।
জীবনে এত দুঃখ, কষ্ট, শোক, যাতনা, বঞ্চনা, প্রিয়জন হারানোর বেদনা কীভাবে সইব? তাই আজ হাত তুলছি পরম করুণাময়ের কাছে। একমাত্র তিনিই পারেন আমাদের এসব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতে। হে আল্লাহ! তুমি একমাত্র মহান রব। দয়াময় সর্বোচ্চদাতা, এই দুঃখের সময়ে তুমি আমাদের আকুল আবেদনে সাড়া দাও। তুমিই পার আমাদের দগ্ধ হৃদয়কে শান্ত করতে। তোমার দয়া ছাড়া এত শোক, এত কষ্ট কীভাবে আমরা সামলাব? পবিত্র কোরআনে তুমি কতবার বলেছ, আমি বান্দার ডাকে সাড়া দিই। তোমরা আমাকেই ডাকো। সুরা আল আরাফে বলেছ, ‘তোমরা আমাকে চুপিচুপি ডাকো।’ সুরা আল আনআমে বলেছ, ‘মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।’ সুরা আনকাবুতে বলেছ, ‘তোমরা আল্লাহর কাছেই রিজিক চাও।’
হে আল্লাহ! তুমি সর্বোত্তম রিজিকদাতা। আমাদের এই চরম দুর্দিনে তুমি ছাড়া আর কেউ নেই। কোনো মুসলমানকে রিজিকের কষ্টে রেখ না। সুরা মুলকে তুমি বলেছ, ‘তুমি যদি রিজিক বন্ধ করে দাও, তবে আর কে রিজিক দিতে পারবে? ’
হে আমাদের রব! আমরা তোমার প্রতিটি কথা বিশ্বাস করি এবং একমাত্র তোমার কাছেই রিজিক চাইছি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে। সুরা মুহাম্মদে তুমি ওয়াদা করেছ, ‘যারা তোমার পথে থাকবে, তাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গার কল্যাণের ব্যবস্থা করে দেবে।’ হে রাব্বুল আলামিন! পরওয়ারদেগার, সব জগতের মালিক। আজ আমাদের চরম দুর্দিনে একমাত্র তুমি ছাড়া কেউই বাঁচাতে পারবে না। এই মুহূর্তে কেউ আছেন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে, কেউ অক্সিজেন নিচ্ছেন দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা। কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কষ্ট-যাতনায় কাতরাছেন। হে আমাদের রব! তুমি সব বিপদ-আপদ তোমার অসীম দয়ার বরকতে দূর করে দাও। আমাদের অসংখ্য ভুলত্রুটি মাফ করে দাও, আমাদের অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়ো না।
আমরা আজ বুঝতে পারছি, প্রতি পদে পদে তুমি রয়েছ আল্লাহ। একমাত্র আল্লাহই আমাদের সর্বোত্তম সাহায্যকারী, আমাদের হৃদয়ের এই আকুল আবেদন তুমি ফিরিয়ে দিয়ো না। আমাদের তোমার অনুগত বান্দা হওয়ার ক্ষমতা দাও। কারণ পবিত্র কোরআনে তুমি অনেক বার বলেছ, হেদায়েতের মালিক কেবলমাত্র তুমি। হে আল্লাহ! আমাদের মনকে তোমার প্রতি ভালোবাসা ও ভরসাস্থল বানিয়ে দাও। আমরা যেন একমাত্র তোমার কাছেই সব রকমের সাহায্য অত্যন্ত আশা নিয়ে চাইতে পারি। কারণ তুমি পবিত্র কোরআনে নিরাশ হতে নিষেধ করেছ। এবার বলো তাহলে আমরা আর কোথায় নত হব তুমি ছাড়া?
হে মহান রব! আমাদের তুমি সেই ধৈর্য দাও এত সব বিপদ মোকাবিলা করার। কারণ তুমি নিজেই কোরআনে কারিমে বারবার বলেছ, ‘তুমি ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছো।’ আজ একমাত্র তোমার পানেই চোখ ভিজে যাচ্ছে। হে দয়াময়! হে রাব্বুল আলামিন! আমাদের আশা-ভরসাস্থল সবকিছু তো তুমি। সুরা আলে ইমরানে তুমি বলেছ, ‘তোমার কাছেই বলতে, তোমাকে পাওয়ার পর তোমার সরল পথ থেকে যেন দূরে সরে না যাই।’ আমাদের আর পরীক্ষা করো না প্রভু। আমাদের সাহায্য করো। তুমি আরও আশা দিয়ে বলেছ, যে তোমাকে ভালোবাসবে, তুমিও তাদের ভালোবাসবে। হে আল্লাহ! অঝোরে কেঁদে কেঁদে বলছি, তোমার পবিত্র সত্তার কসম! তোমাকে মনেপ্রাণে আমরা ভালোবাসি, সাহায্য করো, আমাদের ফিরিয়ে দিয়ো না, আর পরীক্ষা নয় রাব্বুল আলামিন।
হে মহান রব! আমরা আজ যারপরনাই অসহায় চিত্তে শুধু তোমাকেই ডাকছি। সবার চোখ পানিতে ভেজা। হৃদয়ে কষ্ট-বেদনার হাজারো ক্ষত। সুরা ইনশিরাহে (সুরা আলামনাশরাহ) বলেছ, ‘অবশ্যই কষ্টের সঙ্গেই তো আছে সহজ ও স্বস্তি।’ একি কালজয়ী, মহান হৃদয় আলোড়ন সৃষ্টিকারী তোমার বাণী। এ বাণী তো আমাদের জন্য। হ্যাঁ, রাব্বুল আলামিন মুসলমানদের জন্য। আমরা সম্পূর্ণ আস্থার সঙ্গে তোমার দয়া ভিক্ষা করছি। সব অবস্থায় যেন তোমার জিকির, তোমার শোকর এবং তোমার ওপর ভরসা রেখে তোমার কাছেই পুরোপুরিভাবে নিজকে সঁপে দিতে পারি। অচিরে তোমার সাহায্য আসবে। আসবেই-ইনশাআল্লাহ।