অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য সংবিধানে বিশেষ বিধান প্রণয়নের কথা রয়েছে জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ‘‘পরিচয়হীনদের (বাবা-মা অজ্ঞাত/অজানা) সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ‘পরিচয়’ প্রদানে আইনগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। যদি জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের বিষয় আসে অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করব।’’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত ‘ভোটার তালিকায় পরিচয়হীনদের পিতা-মাতার নাম লিপিবদ্ধকরণে জটিলতা নিরসন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া এইসব জনগোষ্ঠীর ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। কেননা, ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল বিষয় হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি। এর ফলে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি, এই ক্ষুদ্র শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে।’
প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তি পরিচয়ের অধিকার রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই না সমাজের একটি অংশকে বা বিচ্ছিন্ন অংশকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে। অথবা এনআইডির বাইরে রাখলাম, এতে তার নাগরিক অধিকার ক্ষুণœ হয়।’
স্পিকার জানান, এনআইডির তথ্য যেন তাদের বিব্রত না করে সে বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। এই কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। অনগ্রসর অংশকে এগিয়ে নিতে বিশেষ বিধান আনার প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘ব্যক্তি পরিচয়ের মাধ্যমে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ সফলতা হলো ভোটার ডাটাবেজ। এর মাধ্যমে তারা ১১ কোটি নাগরিককে এনআইডির আওতায় আনতে পেরেছে। এটি রাষ্ট্রের একটি অনন্য সম্পদ। সমগ্র রাষ্ট্রের সকলেই এই ডাটাবেজ ব্যবহার করছে। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি তত বাড়বে।’
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘সংবিধান যদি মেনে চলতে হয় তবে লাখ লাখ পরিচয়হীনকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে যে পদ্ধতি আছে, তাতে জায়গা নেই। আইনি কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। কেননা, এনআইডি ছাড়া বা পিতা-মাতার নাম না থাকায় তারা অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিচয়হীনরা কেন ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে ভোটার হবে?
তিনি বলেন, এনআইডি সার্ভার থেকে ১৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান সেবা নিচ্ছে। সেখানে তাদের জায়গা নেই। তাই মেইন স্ট্রিমে আনতে চাচ্ছি। এদের মেইন স্ট্রিমে আনতে হবে।
যাদের পিতা-মাতার পরিচয় নেই ব্যবহারিক ক্ষেত্রে তাদের পদে পদে বিড়ম্বনা জানিয়ে ইসি মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘কেবল জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম না থাকার জন্য সকল ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম দেওয়াই সব কথা নয়। সর্বক্ষেত্রে সম্মান দিতে হবে।’
বক্তারা বলেন, পরিচয়হীনরা স্কুলে ভর্তি, ভূমি নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক ঋণসহ ১৬ ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই আইনে পরিবর্তন এনে বিষয়টির সমাধান প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম। তিনি এতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিল ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, পাসপোর্ট ও বহিরাগমন অধিদপ্তরের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয়কে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলেন।
ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় চার নির্বাচন কমিশনারসহ পরিচয়হীন হিজড়া, এতিমসহ অন্যান্য গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।