পিরোজপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শুঁটকির ব্যবসা। দেশের বিভিন্ন স্থানে কেমিক্যালমুক্ত এসব শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা থাকায় দিন দিন বাড়ছে এর উৎপাদন। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও এর চাহিদা বাড়ছে। জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্যবন্দরের কাছে গড়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে শুঁটকিপল্লির শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পিরোজপুরের পাড়েরহাট বন্দর বঙ্গোপসাগরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার বাদুরা নামক স্থানে গড়ে উঠেছে একটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। জেলেরা সাগর থেকে মাছ ধরে সরাসরি নিয়ে আসেন এই কেন্দ্রে। এখানে শতাধিক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের আমদানি হয়। এর মধ্যে ফ্যাপস্যা, লইট্যা, ছুরি, মর্মা, চিতলসহ প্রায় ৩৫ প্রকারের সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি করা হয়। মাছভেদে প্রতি কেজি শুঁটকি বিক্রি হয় ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেন জানান, নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে চার মাস চলে এই শুঁটকির ব্যবসা। কেমিক্যালমুক্ত ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে শুঁটকি তৈরি করায় এর চাহিদা অনেক। বর্তমানে বাদুরা গ্রামে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। এখানে কাজ করছেন প্রায় ৭০ জন শ্রমিক। বছর পাঁচেক আগে একটি শেড থেকে এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে শেডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫টিতে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবদুল বারী বলেন, ‘মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কাঁচা মাছের পাশাপাশি জমে উঠছে শুঁটকির ব্যবসা। এই শুঁটকিপল্লি থেকে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়।’