খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় বিনামূল্যের নলকূপ বিতরণে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুফলভোগীদের কাছ থেকে নলকূপপ্রতি নেওয়া হয়েছে ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতি গ্রামে একটি করে স্থাপনের কথা থাকলেও তিনটি নলকূপ বসানো হয়েছে একই গ্রামে মাত্র ১০০ মিটারে দূরত্বের মধ্যে। ১০টি নলকূপের মধ্যে ৭টি বাড়ির অভ্যন্তরে বসানোর ফলে প্রতিবেশী পরিবারগুলো সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সুপেয় পানির সংকট থাকায় চাহিদা মেটাতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতা সংস্থাও কাজ করছে। সম্প্রতি ‘এলজি ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ’-এর অর্থায়নে ‘ট্রাই ডিজিটাল’-এর মাধ্যমে উপজেলার ১০ গ্রামে ১০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের দায়িত্ব পায় ‘ইনিশিয়েটিভ ফর কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট (আইসিডি)’। এর আগে ‘আরআর’ নামের একটি দাতা সংস্থা কর্তৃক আরও তিনটি নলকূপ বিতরণের দায়িত্ব পায় প্রতিষ্ঠানটি। আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা আশিকুজ্জামান এসব নলকূপ বিতরণ করতে গিয়ে সুফলভোগীদের কাছ থেকে উল্লিখিত টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
আরআর সংস্থার তিনটি নলকূপ বসানো হয় শিমলার আইট গ্রামে। নলকূপগুলো নিয়েছিলেন শিক্ষক আবুল বাশারসহ তার দুই আত্মীয়। আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা নলকূপের জন্য অনেক জায়গায় ঘুরেছি। অবশেষে আশিকের সঙ্গে কথা হলে সে বলে সাড়ে ১২ হাজার টাকা দিলে নলকূপ দেবে। আমরা তিনজন সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা দিই। পরে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি পরিদর্শনের সময় বিনামূল্যের বিষয়টি জানতে পারলে ওই টাকা থেকে তিনটি কলের গোড়া বাঁধাই করার জন্য ২১ হাজার টাকা ফেরত দেবে বলেছে। বাকি টাকা সে রাখবে।’
একই গ্রামের দিনমজুর মনিরুল ইসলাম এলজির দেওয়া একটি নলকূপ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমিতি থেকে টাকা তুলে স্থানীয় একজনের কাছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা দিই। এ ছাড়া নিজেরা সম্পূর্ণ খরচ করে গোড়া পাকা করি। পরে জানতে পারি এলজি আমাদের বিনামূল্যে নলকূপ দিয়েছে। তাই কষ্টের টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার অনুরোধ রইল।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সুফলভোগী বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিনামূল্যের বিষয়টি জানাজানি হলে আমাদের বিভিন্ন কথা বলে প্রথমে টাকা দেওয়ার কথা কারও সঙ্গে বলতে নিষেধ করা হয়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয়ে গোড়া পাকা করার জন্য টাকা নিয়েছে এটা বলতে বলা হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে আশিকুজ্জামান বলেন, ‘ নলকূপের গোড়া পাকা করার জন্য কোনো টাকা বরাদ্দ ছিল না। বাঁধাইসহ কিছু খরচের জন্য অল্প কিছু টাকা নিই। তবে কোনো উপকারভোগী অভিযোগ করলে তার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’
ট্রাই ডিজিটাল টেকনোলজি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মইনুল ইসলাম খান বলেন, ‘নলকূপগুলো বিতরণে কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।’ ১০টি নলকূপ বাবদ বরাদ্দের টাকার পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এলজির বাংলাদেশ ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ট্যাক্স কর্মকর্তা রেহানুদ্দিন বলেন, ‘১০টি নলকূপ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। শর্ত ছিল নলকূপগুলো এমন স্থানে বসাতে হবে, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ সব সময় পানি নিতে পারবে।’