করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখতে ‘সর্বাত্মক’ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার কারণে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি দেখা দিলে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রবিবার সাভারের দত্তপাড়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নবম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখনই আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছি না। যতদিন সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চাই। জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আজ (গতকাল) আমাদের বৈঠক আছে। আমরা পুরো অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখব।
মন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু নতুন করে করোনার সংক্রমণ আবারও বাড়ছে তাই আমাদের সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। সারা বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত তখনো বাংলাদেশ অত্যন্ত ভালো অবস্থানে থাকায় আমরা ভেবেছিলাম করোনা হয়তো চলেই গেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বারবার সবাইকে সতর্ক হতে বলেছেন। তাই আমরা বিশ্বাস করি সবাই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব। ’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনার সংক্রমণ বিষয়ে তিনি বলেন, একদিকে যেমন আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না, আরেক দিকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এজন্য যদি প্রয়োজন হয় তাহলে নিশ্চয়ই আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করব।’
করোনা টিকা প্রদানের বয়স শিথিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১২ বছরের অধিক বয়সীদের টিকা দেওয়া যাচ্ছে, কিন্তু এর কম বয়সীদের টিকা প্রদানের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। কাজেই ১২ বছরের ওপরে যারাই আছে তাদের সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনার টিকা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
এর আগে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন থেকে পরীক্ষানির্ভর, সনদসর্বস্ব প্রায়। আমরা মনে করি মূল্যায়ন করা মানেই শুধু পরীক্ষা নেওয়া। ফলাফল যত ভালো হবে সেটাই মূল্যায়নের চাবিকাঠি। যদি তাই হবে তাহলে এত সনদধারী বেকার কেন? নিশ্চয়ই এটি আমাদের কাম্য নয়। সেজন্য আমরা আমাদের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় একেবারে প্রাক-প্রাথমিক থেকে একটি পরিবর্তন নিয়ে এসেছি।’
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক বেশি প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে। আমরা প্রাক-প্রাথমিক থেকেই শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের শিশুরা জানতে চাইবে, শিখতে চাইবে। সেজন্য সব পরিবারের মধ্যে, আমাদের মধ্যে মানসিক ধরনের পরিবর্তন আনা, মানসিকতার পরিবর্তন আনা জরুরি। আমরা সমস্যার কথা বলি কিন্তু সমস্যা সমাধানের কথা বলি না। এটা খুব জরুরি।’
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুল হক মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ মো. মমিনুল হক মজুমদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. একেএম হকসহ বিভিন্ন বিভাগের ডিন। এ ছাড়া সমাবর্তনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ ও ভারতীয় নোবেল বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী।