রাজশাহীতে ১০ মাসের শিশুকে একসঙ্গে চার ডোজ টিকা প্রয়োগের ঘটনায় চার স্বাস্থ্যকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মী জোসনা, শিল্পী, তহমিনা ও সুপারভাইজার আজাহার আলী।
গতকাল সোমবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ‘অতিরিক্ত টিকা প্রয়োগের ঘটনায় চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত রবিবার রাজশাহী নগরের নিউ কলোনি এলাকার ইপিআই কেন্দ্রে শিশু সুমাইয়াকে চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য নিয়ে যান তার মা। এক ডোজের পরিবর্তে তাকে চার ডোজ টিকা দেন দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা। পরে শিশুটির বাবা সাদ্দাম হোসেন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ে সুমাইয়াকে গত বছরের ২৩ জুন তৃতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ ডিসেম্বর চতুর্থ ডোজ দেওয়ার কথা ছিল। রাজশাহীতে না থাকায় সে সময় টিকা দেওয়া হয়নি। রবিবার মেয়েকে নিয়ে আমার স্ত্রী টিকাদান কেন্দ্রে গেলে একটির পরিবর্তে চারটি টিকা দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। অতিরিক্ত টিকা দেওয়ায় আমার মেয়ের জ¦র এসেছে।’
তদন্ত কমিটির প্রধান রাসিকের ভেটেরিনারি সার্জন ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমরা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। আগামীকাল (আজ) সকাল থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করব। নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করব।’
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘টিকার অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া ঠিক হয়নি। তবে এতে শারীরিক কোনো সমস্যা হবে না। সাধারণত টিকার কোনো পাশর্^প্রতিক্রিয়া এক ঘণ্টার মধ্যেই হয়। এ কারণে শিশুটির জ¦র হতে পারে। এ জন্য শুধু প্যারাসিটামলই যথেষ্ট হবে।’