অসাম্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। বলা চলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উপস্থাপিত ছয় দফা ছিল বাঙালির ম্যাগনা কার্টা, যার মর্মবাণী ছিল এই বৈষম্য ও বঞ্চনার শেকল ছিন্ন করা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বৈষম্যের বিরুদ্ধে সেই অবস্থানকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(২)-এ ঘোষণা করা হয় : ‘মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’ স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের অর্জন অসামান্য; জিডিপির আকার ৪১১ বিলিয়ন ও মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, বার্ষিক খাদ্য উৎপাদন ৩.৭০ কোটি মে. টন অতিক্রম করেছে, দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, গড় আয়ু ৭২.৮ বছরে পৌঁছে গেছে, শিক্ষার হার ৭৫.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তাছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আছে বেশ কিছু নামিদামি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল প্রাক্কলন। প্রাইসওয়াটারহাউস কুপার্সের প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩০ সালে হবে ২৮তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ-এর মতে ২০৩৬ সালে হতে চলেছে ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।
এতসব সাফল্যগাথার মধ্যে চাঁদের কলঙ্কের মতো বৈষম্য এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে পড়েছে। কোনো দেশের মানুষের মধ্যে বিরাজমান আয় ও সম্পদ বৈষম্যের মাত্রা পরিমাপের জন্য ইতালীয় পরিসংখ্যানবিদ ঈড়ৎৎধফড় এরহর একটি গুণাঙ্ক প্রবর্তন করেন, যার মান ০ থেকে ১ পর্যন্ত বিস্তৃত। গিনি কোয়েফিসিয়েন্ট বা ‘গিনি সহগ’ নামে খ্যাত এই স্কেলে মান শূন্য অর্থ দেশে মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য নেই; আর মান ১ অর্থ পূর্ণমাত্রায় বৈষম্য বিরাজমান; সব সম্পদ ও আয় একজন বা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের পূর্ণ দখলে। ১৯৭৩-৭৪ সালে দেশে এই কোয়েফিসিয়েন্টের মান ছিল ০.৩৬, এরপর ১৯৯১-৯২ সালে তা ধীরে ধীরে হয়ে যায় ০.৩৯। কিন্তু তারপর থেকে শুরু হয় উলম্ফন; ১৯৯৫-৯৬ সালে এর মান হয়ে যায় ০.৪৩ এবং ২০০৫ সালে তা হয় ০.৪৬। এরপর ২০১০ সাল পর্যন্ত অবশ্য এই মানের আর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি, তবে ২০১৬ সালে গিয়ে মান দাঁড়ায় ০.৪৮২। কভিডে নিম্নআয়ের মানুষ, ক্ষুদ্র ও স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষজনের আয় ও সম্পদ কমে গিয়েছে সবচেয়ে বেশি, আর ধনীদের অনেকের আয় বেড়ে গিয়েছে, তারা আবার প্রণোদনাও পেয়েছেন প্যাকেজে প্যাকেজে; কিন্তু ছোটরা তেমনটা নয়। ফলে বড় মাছ যেমন ছোট মাছ খেয়ে ফেলে, এখন সেই অবস্থা সৃষ্টি হয়ে গেছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই গুণাঙ্কের মান ০.৫ এর কাছাকাছি যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এর অর্থ আমরা চরম বৈষম্যের আবহে পদার্পণ করে ফেলেছি; বিভক্ত সমাজ ও সামাজিক অস্থিরতা যার পরিণতি।
গিনি গুণাঙ্ক দিয়ে বৈষম্যের প্রকৃত চিত্র সাধারণ্যে তেমনটা পরিষ্কার হয় না। সেই জন্য একটা নির্দিষ্ট শতাংশ সর্বোচ্চ আয়ের মানুষের আয় ও সম্পদ প্রতিপক্ষ দলের আয় ও সম্পদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ২০২১ সালের বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আয়ের ১ শতাংশ মানুষ দেশের মোট আয়ের ১৬.৩ শতাংশ কব্জা করে আছেন, পক্ষান্তরে নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষ একত্রে আয় করেন মাত্র ১৭.১ শতাংশ। আবার ১৯৯১-৯২ এবং ২০১৬ সালের মধ্যে দরিদ্রতম ৫ শতাংশ পরিবারের আয়ের অংশ ১ শতাংশ থেকে কমে ০.২৩ শতাংশ হয়। উল্টোদিকে সর্বোচ্চ ধনবান ৫ শতাংশের আয়ের অংশ ওই সময়ে ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮ শতাংশে উপনীত হয়। ওয়েলথ এক্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এদেশে ২০১০-১৯ সময়ে ধনীর সংখ্যা বেড়ে যায় ১৪.৩ শতাংশ হারে। বৈষম্য এখন শুধু মানুষের আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এখন সেটার সম্প্রসারণ ঘটেছে আঞ্চলিক ও স্থানিক পরিমণ্ডলেও। এখনো কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, বান্দরবান, মাগুরা কিশোরগঞ্জ, খাগড়াছড়ি এবং জামালপুর জেলায় দারিদ্র্যের হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে বিরাজমান। গড়পড়তা হিসাব করলে দেখা যায় দেশের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বেশি থাকায় সেখানে মানুষের আয়ের সুযোগ বেশি এবং দারিদ্র্যের হার কম। পক্ষান্তরে পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে মানুষ প্রধানত কৃষিনির্ভর হওয়ায় এবং কৃষিবহির্ভূত অর্থনৈতিক কার্যক্রম কম থাকায় এই অঞ্চলে মানুষের আয়ের সুযোগ কম ও দারিদ্র্যের হার বেশি। এটা বোঝা যায় চরম দারিদ্র্যের গড় হার দেখে; চরম দারিদ্র্যের হার পশ্চিমাঞ্চলে ১৯.১ শতাংশ, অপর দিকে পূর্বাঞ্চলে এই হার প্রায় অর্ধেক; ১০.৪ শতাংশ। কভিড শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে পল্লী ও শহরাঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দরিদ্র মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্রে নানারূপ বঞ্চনার শিকার।
কিছু অর্থনীতিবিদের কথাতেও এই ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বিগত ২৪ ডিসেম্বর অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন যে, সম্পদ বণ্টনে এখানে বড় অন্যায্যতা রয়েছে। ড. আকবর আলি খান আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন যে, দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বৈষম্য বাড়ছে। এখন প্রশ্ন হলো, যে বৈষম্যের মূলোৎপাটন করতে গিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে এদেশ স্বাধীনতা লাভ করল, সেই দেশে সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও এই বৈষম্যের বিস্তার কীভাবে ঘটে? উন্নয়নের জন্য কি তাহলে বৈষম্যের বিস্তার অপরিহার্য? উন্নয়ন ও বৈষম্যের সম্পর্ক নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। একদল মনে করেন যে, ধনীদের বিনিয়োগ প্রবণতা বেশি, পক্ষান্তরে দরিদ্রদের ভোগ প্রবণতা বেশি। মানুষের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ধনিক শ্রেণির বিনিয়োগের ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে। ফলে বিকাশমান অর্থনীতিতে কিছু মাত্রার বৈষম্যের বিস্তার অবশ্যম্ভাবী; যাদের সহায়তায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়, তাদের কিছু রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া অসংগত নয়, তাতে বরং উন্নয়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়। তবে দেশ উন্নয়নের উচ্চ স্তরে পৌঁছে গেলে বৈষম্যের মাত্রা আবার কমতে শুরু করে। প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ Simon Kuznets ছিলেন এই মতবাদের সমর্থক। এই মতবাদের জ্যামিতিক রূপ দেওয়ার জন্য উল্টো ‘ট’ আকৃতির একটি রেখাচিত্রও তিনি প্রবর্তন করেন, যেটা Kuznets Curve হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ Joseph E. Stiglitz এর অবস্থান এই মতবাদের বিপরীতে। তার কথা অনেক উন্নত দেশে বৈষম্যের মাত্রা প্রথমে কিছু দিন কমার পর আবার বাড়তে দেখা যায়। তার কারণ, ধনিক শ্রেণি তাদের অনুকূলে সরকারের নীতি-কৌশল প্রভাবিত করে। অবশ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে সরকারি নীতি ও কর্মসূচির কারণে উন্নয়নের কোনো পর্যায়েই বৈষম্যের উলম্ফন দেখা যায়নি। কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার উন্নয়ন পরিক্রমা তার বড় দৃষ্টান্ত। কাজেই যত আগে থেকে বৈষম্য দূরীকরণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, ততই ভালো; ওটা বাড়তে দিয়ে পরে সেটা কমাতে গেলে চর্বি কমাতে লাইপোসাকশনের মতো ব্যয়বহুল ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াযুক্ত শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। বিশ্বে বৈষম্য কমাতে প্রধানত দুই ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়: ক) আয় ও সম্পদের পুনর্বণ্টন এবং খ) দরিদ্রদের আয় ও সম্পদ বর্ধন। প্রথমোক্ত পদক্ষেপটি স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদি, সহজেই দৃশ্যমান, তবে খুব কমই টেকসই। শেষোক্ত ব্যবস্থাটি মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি, অপেক্ষাকৃত কম দৃশ্যমান, কিন্তু টেকসই ফলাফল দিতে সমর্থ। সমাজবাদীরা সমাজে দ্রুত সমতা আনার প্রয়াসে সাধারণত প্রথমোক্ত কৌশলের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এ প্রসঙ্গে সমাজতন্ত্রের কট্টর সমালোচক Sir Winston Leonard Spencer Churchill এর পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য: ‘The inherent vice of capitalism is the unequal sharing of blessings; the inherent virtue of socialism is the equal sharing of miseries.’’ এর গূঢ় তাৎপর্য হলো, উৎপাদন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে আয় ও সম্পদের পুনর্বণ্টন করা যাবে না; আবার মানুষকে নানা কায়দা-কৌশলে দরিদ্রতর করে সম্পদ ও আয় কুক্ষিগত করার ব্যবস্থাও বহাল রাখা যাবে না; অর্থাৎ একটা মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে। দরিদ্র মানুষের একমাত্র সম্পদ তার শ্রমশক্তি। এই শ্রমশক্তির বিকাশ ও উন্নয়ন এবং অর্থনীতিতে তার অবাধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই কেবল তাকে টেকসই পদ্ধতিতে বৈষম্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করা যায়। এ লক্ষ্যে এই শ্রেণির মানুষের জন্য নিবেদিত আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা ও পুনঃদক্ষতা সেবা, নারীশিক্ষা, আনুষ্ঠানিক সেবা খাতে নারীর বর্ধিত অন্তর্ভুক্তি, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে। যে টারশিয়ারি শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণি নিম্নবিত্তদের ওপর খবরদারি করার সক্ষমতা লাভ করে থাকে, সেখানে নিম্নবিত্তদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাকে জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করতে হবে; বিশ্বায়নের এই যুগে পুরো পৃথিবীকে কর্মক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এই অধমর্ণদের যোগ্যতা ও দক্ষতা শিক্ষা দিতে হবে। তাছাড়া সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জীবিকার সঙ্গে সম্পর্ক বিযুক্ত উচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রি সর্বস্ব কেতাবি শিক্ষা সীমিত করে সম্পদের অপচয় রোধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশে ২০১৫ সালে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (NSSS) প্রণীত হয়েছে, কিন্তু তা এখনো পুরাপুরিভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেখানে মানুষের জীবনচক্রভিত্তিক সমর্থনসহ অসংখ্য কার্যক্রমের কথা বলা আছে। এটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে এবং লক্ষ্যচ্যুতির মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে। তবে কর্মক্ষম মানুষ যাতে সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা নিয়ে কাজ না করে আয়েশি জীবনযাপন করতে না পারে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। যেসব ভৌগোলিক এলাকায় দারিদ্র্যের অভিঘাত বেশি, কৃষি বহির্ভূত কর্মসৃজনের লক্ষ্যে সেসব অঞ্চলে প্রয়োজনে প্রণোদনা দিয়ে শ্রমঘন বিভিন্ন শিল্পকারখানা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। আশির দশকে চীনে গৃহীত উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়। ফলে পশ্চাদভূমিগুলো বৈষম্যের শিকার হয়। পরের দশকে সরকারি হস্তক্ষেপে এই ভৌগোলিক বৈষম্য কমে আসে।
সামাজিক খাতের এই বিশাল ব্যয় নির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থসংস্থানের প্রয়োজন হবে। এখন এ খাতের ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাদ দিলে তা ১ শতাংশের বেশি হবে না। এটাকে প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাড়াতে হবে। ব্যয় নির্বাহের জন্য এখন দেশে কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৯ শতাংশ; দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এই হার ১৭ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। এটা করা সম্ভব হলে বিনিয়োগের জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। তবে এর জন্য কর আদায় ব্যবস্থাকে গতিশীল ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিতে হবে। বৈষম্যের বেড়াজাল থেকে মুক্তি একটি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, আর ব্যক্তির জন্য এটা অধিকার। বৈষম্যের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত মানুষ যে শুধু ব্যক্তিগত এবং গোষ্ঠীগতভাবে নিজেদের শারীরিক, মানসিক ও জ্ঞানীয় বিকাশ ঘটানোর সুযোগ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হন, তাই না, সমাজ ও রাষ্ট্র এই সব নাগরিকদের সম্ভাবনাময় অবদান থেকে বঞ্চিত হয়; সমাজে বৃদ্ধি পায় ভারসাম্যহীনতা ও অস্থিরতা; দীর্ঘ মেয়াদে বিঘি্নত হয় শান্তি ও উন্নয়ন প্রয়াস। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের জন্যও এই বৈষম্যের বিতাড়ন প্রয়োজন। আমরা আশা করি সরকার তার সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি পালন করার লক্ষ্যে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
লেখক খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কলামনিস্ট
rulhanpasha@gmail.com