তথ্যমন্ত্রী বললেন

করোনা বাড়লে দায় বিএনপির

সরকার জনস্বার্থে বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও বিএনপি তা না মেনে তাদের কর্মসূচি চালালে করোনা সংক্রমণের দায় তাদের নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে সরকার। করোনা ও করোনার টিকা নিয়ে মিথ্যাচার করছেন বিএনপি নেতারা। সরকারকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন আবোলতাবোল বকছে।’

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডের বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ঘোষণা দিয়েছেন তিনি নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। আমি মনে করি এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেটি নিয়ে দেখলাম কিছু গণমাধ্যমে শামীম ওসমান নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন এমন কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রণীত আচরণবিধিতে বলা হচ্ছে, সংসদ সদস্যরা কোনো স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু আশপাশে কোনো দেশেই এ ধরনের আচরণবিধি নেই, ইউরোপেও এ ধরনের বিধিনিষেধ নেই। মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা অন্য দেশে

তাদের প্রটোকল বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশে এমনকি মুখ্যমন্ত্রীরাও পারে, মন্ত্রীরাও পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু প্রটোকল সুযোগ-সুবিধা বাদ দিতে হয়। সংসদ সদস্যদের ওপর নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের বিধিনিষেধ বৈষম্যমূলক।’

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর করোনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘রিজভী সাহেবের এ বক্তব্যে মনে হয়, আসলে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেতারা দিগি¦দিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন এবং আবোলতাবোল বলছেন, এটি তারই ধারাবাহিকতা। তাছাড়া বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে করোনা মোকাবিলা করেছেন সেটি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ অনেক দেশই করতে পারেনি। এটি সারা বিশ্ব কর্র্তৃক প্রশংসিত হয়েছে এবং করোনা মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হওয়ার কারণে আমাদের দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা আছে। করোনা মহামারীতে গত বছর পৃথিবীর মাত্র ২০টি দেশে পজিটিভ জিডিপি গ্রোথ হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি, বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।’

বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা (বিএনপি) ২০১৩, ’১৪, ’১৫ সালে দেশে প্রচ- ধ্বংসাত্মক রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছিল। তারা পেট্রলবোমা, আগুনবোমা নিক্ষেপ করে মানুষকে হত্যা করেছে এবং দিনের পর দিন হরতাল, অবরোধের মাধ্যমে মানুষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মানুষ সেই রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যে আবার সেই পথে হাঁটতে পারে সেটির ইঙ্গিত স্পষ্ট এবং সেটি হলে দেশের মানুষ তাদের প্রতিহত করবে।’