বিয়ের ২৫ দিনের মাথায় সুমাইয়া খাতুন (১৮) নামে এক নববধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ^শুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে। সুমাইয়ার মা-বাবার দাবি, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে নিহতের শ^শুরবাড়ির লোকজনের ভাষ্য, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা ইউনিয়নের পারমিটন এলাকার শ^শুরবাড়ি থেকে আগুনে ঝলসানো ওই গৃহবধূকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। সুমাইয়া দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার আয়েম আলীর মেয়ে এবং মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের পারমিটন এলাকার সাদিকুল ইসলামের স্ত্রী।
আমলা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই কামরুজ্জামান বলেন, গতকাল সকালে গায়ে আগুন দিলে সুমাইয়ার মামা জালাল হোসেন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে গত ১৬ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা জানায়।
সুমাইয়ার বাবা আয়েম আলী বলেন, ‘বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে জামাইকে ১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের তিন দিন পরেই জামাই জানায় টাকার খুব দরকার। ব্যবসা করার জন্য টাকা লাগবে। এজন্য টাকা নিয়ে যেতে সুমাইয়াকে চাপ দেয়। কিন্তু আমি গরিব মানুষ হওয়ায় ১ লাখ টাকা একবারে দিতে পারিনি। এ নিয়ে সাদিকুল তার ওপর নির্যাতন চালাত বলে মেয়ে আমাকে বারবার জানিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও টাকা নিতে পাঠিয়েছিল সুমাইয়াকে। চার দিন পর আমার কাছ থেকে আরও কিছু টাকা নিয়ে মেয়ে স্বামীর বাড়িতে ফিরে যায়। কিন্তু পুরো টাকা নিয়ে না আসার কারণে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং সুমাইয়াকে গালমন্দ ও মারধর করে। যৌতুকের ১ লাখ টাকা না পেয়ে আমার মেয়েকে ওরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আমি বিচার চাই, পাষ-দের ফাঁসি চাই।’
এ ব্যাপারে মিরপুর থানার ওসি গোলাম মস্তফা বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গৃহবধূ সুমাইয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, নিহতের বাবা হত্যার অভিযোগে এজাহার দিয়েছেন। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। নিহতের স্বামী ও শ^শুরবাড়ির লোকজন পলাতক।