ইসরায়েলের অভিযোগ, ইরান থেকে আসা চার নারী-সহ পাঁচজন শিয়া প্রধান দেশটির হয়ে চরবৃত্তি করছিল। যাদের সবাই ইহুদি।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা শাখা শিন বেট এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে গুরুতর এ অপরাধের অভিযোগ এনেছে।
বলা হচ্ছে, পাঁচজনকেই সামাজিক মাধ্যম থেকে বেছে নিয়েছিল ইরানের অপারেটর। সে নিজেকে ইরানের ইহুদি বলে পরিচয় দিয়ে ফেইসবুকে চার নারী ও এক পুরুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপর তাদের সঙ্গে সে কয়েক বছর ধরে হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটও করেছে। তাদের দায়িত্ব ছিল মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গার ছবি তুলে পাঠানো।
কয়েকজন নারীর সন্দেহ ছিল অন্য পুরুষটিই আসলে ইরানের হয়ে কাজ করছে। তবে তারা কাজের বিনিময়ে অর্থ নিয়েছে বলে শিন বেট জানিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট গোয়েন্দা সংস্থাকে ধন্যবাদ দিয়ে জানিয়েছেন, তারা একটা সন্ত্রাসী চক্রান্ত ধরে ফেলেছে। তিনি ইসরায়েলের মানুষকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক পোস্ট দেখলেই তারা যেন কর্তৃপক্ষকে জানান। কারণ, সামাজিক মাধ্যমে ওই পোস্টের পেছনে তেহরান থাকতে পারে।
একজন অভিযুক্ত নারী তার স্বামীর সঙ্গে গিয়ে তেল আবিবে মার্কিন দূতাবাসের ছবি তুলেছিল। একই নারী স্থানীয় একটি শপিং সেন্টারের বিস্তারিত তথ্য ও সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, তা জানিয়েছিল।
ওই নারী তার ছেলেকে গোয়েন্দা বিভাগে সামরিক সার্ভিসে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিল। তার ছেলের ফারসি ভাষার ওপর দখল কতটা সেটাও ইরানের অপারেটর ফোনে যাচাই করে দেখেছিল বলে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে।
৫৭ বছর বয়সী আরেক নারী বিভিন্ন কাজ করে পাঁচ হাজার ডলার পেয়েছিল। ওই নারীও তার ছেলেকে সিক্রেট সার্ভিস ইউনিটে যোগ দিয়ে তার মিলিটারি আইডি-র ছবি ইরানের এজেন্টের কাছে পাঠাতে বলেছিল।
ওই নারীও ট্রাম্প জামানায় জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাসের ছবি তুলে পাঠিয়েছিল।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এই চরবৃত্তির চেষ্টা রীতিমতো গুরুতর অপরাধ। তবে তারা মনে করছে, চরবৃত্তির কাজে খুব একটা সাফল্য পায়নি পাঁচ অভিযুক্ত। তবে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে।
শিন বেটের বক্তব্য, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই নেটমাধ্যমে রীতিমতো সক্রিয় এবং এটাকে তারা চরবৃত্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি তাদের তৎপরতা আরও অনেকটাই বেড়েছে।