শিল্পজীবনই আমার ব্যক্তিগত জীবন: জ্যোতি সিনহা

ইন্দো-ফ্রেঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন অভিনেত্রী জ্যোতি সিনহা। শুভাশিস সিনহা নির্মিত ‘আজ দীপার সবকিছু ভালো লাগছে’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি। পুরস্কারপ্রাপ্তি উপলক্ষে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

পুরস্কার প্রাপ্তিতে কেমন লাগছে?

সত্যি আবেগাপ্লুত। এটা আমার জন্য বিস্ময়কর। কাজের প্রতি একটা ডেডিকেশন ছিল, সে জন্যই হয়তো এত বড় একটা প্রাপ্তি আমাদের। খুব ভালো লাগছে। আর এর আগে আরেকটি পুরস্কার পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। ইন্দো-সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এশিয়ান শর্টফিল্ম ও সেরা ওম্যানস শর্টফিল্ম নির্বাচিত হয় এটি। সেখানে জুরি বোর্ডের বিচারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মানও অর্জন করেছি। এবার দ্বিতীয় পুরস্কারটি পেলাম।

কাজ করার সময় কি ভেবেছিলেন এমন পুরস্কার পাবেন বা আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে?

না, ভাবিনি। আর আমাদের ওরকম পরিকল্পনাও ছিল না। শুভাশিস দাদা নিজেই চিত্রনাট্য করেছেন, পরিচালনাও করেছেন। চিত্রগ্রহণের কাজ করেছেন আবিদ মল্লিক। আমরা যখন কাজটা করেছি তখন এটা মাথায় ছিল যে কাজটা যেন ভালো একটা কাজ হয় অথেনটিক একটা গল্প যেন মানুষ দেখতে পায়। একটা মানুষের টানাপোড়েন। একটা মেয়ের একটা দিনের কাহিনি। সেই ফিলটা দিতে চেয়েছি। আমাদের কাজের প্রতি সততা ছিল। ডেডিকেশন ছিল। কোনো কম্প্রোমাইজ করতে চাইনি। আমরা সবাই শ্রম দিয়েছি। শ্রমের মূল্যটা এভাবে পাওয়ায়- এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে মনে হয়েছে অনেক বড় একটা ব্যাপার। এত বড় অর্জন আসবে সেটা আমরা প্রত্যাশা করিনি।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

এটা দাদার একটা গল্প ছিল। গল্পটা পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছিল। এটা তিন বছর আগের কথা। তখন থেকেই শুভাশিস দাদা ভেবেছিলেন এটা নিয়ে ফিল্ম বানাবেন। স্বপ্নটা লালন করেছিলেন অনেক দিন। তো আমাকে স্ক্রিপ্টটা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন যেহেতু ফিল্মের আগ্রহ আছে তুমি স্ক্রিপ্টটা দেখতে থাকো। প্রিপারেশন নিতে থাকো। নিজের মধ্যে ধারণ করতে থাকো। তো মানসিক একটা প্রস্তুতি ছিল। লকডাউনের মধ্যে যখন সব স্থবির। আমরা মঞ্চে কাজ করতে পারছিলাম না, তখন আমরা ভাবলাম যে আমরা তো কাজ পাগল মানুষ। আমরা যদি কোভিডের শর্ত মেনে এই ফিল্মের কাজ করি। তখন আমাদের প্রযোজনা সংস্থা ‘তাহারা’র জন্ম হয়। উত্তম কুমার সিংহ আসলেন। আমরা তিনজন মিলে প্ল্যান করলাম। তারপর কাজ শুরু করলাম। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখলাম আমি ম্যাচ করতে পারছি না। তখন শুভাশিস দা’র ঝাড়ি খেলাম। তারপর সবাই মিলে আমাকে বলল, না না ঠিক আছে। চিন্তা ভাবনা করে শুরু করো। এরপর নিজের মতো করে ভেবেছি। তারপর তিন দিনের মধ্যে কাজটার শুটিং শেষ হয়। আমরা যে পরিশ্রম করেছি তাতে মনে হচ্ছে পরিশ্রমটা সার্থক হয়েছে।

ঢাকায় কবে প্রদর্শিত হবে?

আমাদের চলচ্চিত্রটি ঢাকা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হবে। ২১ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় জাতীয় জাদুঘরে এটি প্রদর্শিত হবে। পরের দিন ২২ জানুয়ারি একই সময়ে শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হবে।

আলো আমার আলো

এই শর্টফিল্মের এডিটিংয়ের কাজ শেষ হলো মাত্র। এটা একটা প্রতিবন্ধী মেয়ের জীবনের গল্প। ফলে আমরা চাচ্ছি এটা যেন আমজনতার কাছে পৌঁছাতে পারে। সে জন্য আমরা চ্যানেলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। এরপর হয়তো আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালেও পাঠানো হতে পারে।

টিভি নাটকে কাজের কি খবর?

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে আর টিভি নাটকে কাজ করি নাই। সামনে যদি কখনো ব্যাট বলে মিলে তো হয়তো কাজ করব। ভালো গল্প পেলে টিভি নাটক বা ফিল্মেও কাজ করব।

মঞ্চে নতুন কিছু আনছেন কিনা?

হ্যাঁ, মঞ্চে নতুন একটা কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনই ডিটেইল কিছু বলা যাচ্ছে না। একটু চমক থাকুক।

কমলগঞ্জ এলাকায় থেকে কাজ করতে সমস্যা হয় কিনা?

এখান থেকে এই কাজগুলো করতে কোনো সমস্যা হয় না। আমাদের শর্টফিল্মের কাজের জন্য পুরো টিমটা আমরা ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছিলাম। লাইট, ক্যামেরা, সাউন্ড যা কিছু লাগে সব। এই কাজটা করতে কোনো সমস্যা পোহাতে হয় নাই। কাহিনির প্রয়োজনে ঢাকায় কাজ করতেও পারি। কিন্তু আমরা চাই এই এলাকায় থেকে কাজ করে আমাদের এলাকাটাকে প্রোমোট করতে। আমরা থিয়েটারে যেমন এখানে থেকেই কাজ করছি, তেমনি ফিল্মের জায়গাতেও এখানে থেকে কাজ করেই যেন বিশ্বজনীন একটা জায়গায় যেতে পারি। আর তাহারা প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে এখানকার মানুষেরাই জড়িত।

ব্যক্তিগত জীবন কেমন কাটছে....

এখন তো অফিস নিয়ে একটু ব্যস্ততা। এমনিতেই তো ভালো। আর আমার ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু নেই। থিয়েটার জীবন, শিল্প জীবনটাই হচ্ছে আমার ব্যক্তিগত জীবন। এই জীবনের সাধনা নিয়েই সারা জীবন থাকতে চাই।