ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কাওয়ালি অনুষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে গতকাল ফের কাওয়ালির আসর হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাওয়ালি ব্যান্ড ‘সিলসিলা’ এ আসরের আয়োজন করে। সিলসিলা ব্যান্ডের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান। সিলসিলা ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুর রহমান বলেন, হামলা করে আমাদের আয়োজন থামানো যাবে না। বুধবার হামলা করে পণ্ড করে দিলেও আজ (গতকাল) আমরা ফের আয়োজন করেছি। এখন থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে কাওয়ালির আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।
আয়োজকদের অন্যতম সালেহ উদ্দীন সিফাত বলেন, ‘আমাদের আসরে বিভিন্ন আধুনিক গান গাওয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি সংস্কৃতির কোনো সীমানা নেই, কোনো মানচিত্রও থাকতে পারে না। গান, সুর ও সংস্কৃতিতে যারা রুখে দিতে চায়, তারা সাংস্কৃতিক দস্যু। তাদের আমরা সংস্কৃতির মাধ্যমেই প্রতিহত করব।’
গত বুধবার সন্ধ্যায় টিএসসির পায়রা চত্বরে কাওয়ালি অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত আটজন আহত হন বলে দাবি করেন আয়োজকরা। হামলার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দায়ী করেন তারা। তবে ছাত্রলীগ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে গতকাল হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে ‘কাওয়ালি মিছিল’ করেন বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে দুপুরে মিছিল নিয়ে রোকেয়া হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ঘুরে প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।
এ ছাড়া গতকাল বিকেলে শাহবাগে হামলার প্রতিবাদে পিপলস অ্যাকটিভিস্ট কোয়ালিশন (প্যাক) ধিক্কার সমাবেশ আয়োজন করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়। সংগঠনের নেতা রাতুল মোহাম্মদ বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর থাকার কথা ছিল। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ বাধা দেয়। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।’
তবে শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার বলেন, ‘সরকারের করোনা বিধিনিষেধ অনুযায়ী কোনো সভা-সমাবেশের সুযোগ নেই। শাহবাগে সমাবেশ করতে চাইলে আমরা তাদের নিষেধ করি। কোনো ধরনের লাঠিচার্জ করা হয়নি।’