কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আহতদের মধ্যে ৩ জন নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১৭ জন কুমেক, ৫ জন সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর গুরুতর আহত ৫ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে দগ্ধ অধিকাংশ শিশুই বিকলাঙ্গ বা শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। শ্রবণশক্তি হারাতে পারে অনেকে।
গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বিরুলিয়া গ্রামে বেলুন বিক্রেতা আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বিরুলিয়া এলাকায় আসছে একটি বার্ষিক মেলাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের বেলুন বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বেলুন ফোলানোর কাজ করছিলেন। তখন তার বাড়িতে শিশু-কিশোরসহ উৎসুক লোকজন ভিড় জমায়। তখন আকস্মিকভাবে সিলিন্ডারটির বিস্ফোরণ হয়। এতে অনেকের মাথা ও চোখ থেঁতলে যায়।
দুর্ঘটনায় আহত আলাউদ্দিন বলেন, প্রায় ২০০ বছর ধরে আমাদের এলাকায় পহেলা মাঘ মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসে। আমি আনোয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে বেলুন নিয়ে মেলায় বিক্রি করি। ওই দিন বিকেলে গিয়েছিলাম কিছু বেলুন আনতে। এরই মধ্যে হঠাৎ বিস্ফোরণটি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়ি রক্তে লাল হয়ে যায়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম জানান, পাঁচ-ছয়জন অগ্নিদগ্ধ, সবচেয়ে বেশি স্পিøন্টার ইনজুরি, অনেকে বার্স্ট ইনজুরিতে আহত হয়েছে। অনেকের হাত-পা ভেঙে গেছে। অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় আহতদের যথাযথভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে, বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ মনিটরিং করছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন বলেন, প্রথমে গুরুতর আহত ১৭ জনকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। পরে তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। দুজনকে তাদের স্বজনরা নিজ দায়িত্বে সেখানে নিয়ে গেছেন।
এদিকে এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাঙ্গলকোটের ইউএনও লামইয়া সাইফুল। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল হক, নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।