মেসওয়াক করা
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মতের জন্য অথবা তিনি বলেছেন, লোকদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তা হলে প্রত্যেক নামাজের সঙ্গে তাদের মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ সহিহ্ বোখারি : ৮৪৩
মেসওয়াক উম্মতের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। দয়া করে উম্মতকে এই বিধান ফরজ হওয়া থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিধানটি সুন্নত হিসেবে বিদ্যমান। বর্ণিত হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় ক. উম্মতের প্রতি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পূর্ণ মায়া, মহব্বত ও দয়া। যা তাদের কষ্ট দেবে তা তিনি প্রবর্তন করা থেকে সর্বদা দূরে থাকতেন। খ. মেসওয়াকের ফজিলত ও মুস্তাহাব হওয়া প্রমাণিত হয়েছে এই হাদিস দ্বারা। গ. নামাজের সময় মেসওয়াক করার বিষয়টি অত্যধিক তাগিদপূর্ণ হওয়া। আর তা প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্যই, চাই তা ফরজ নামাজ হোক কিংবা নফল নামাজ অথবা জানাজার নামাজ। ঘ. ইসলামি শরিয়ত সহজ ও আমলযোগ্য হওয়ার প্রমাণ। এতে এমন কিছু নেই, যা পালন করা অসম্ভব। ঙ. এ হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘প্রত্যেক নামাজের অজুর সময়’ যা ইমাম আহমাদ, নাসায়ি ও মালিক রাহিমাহুমুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। এর দ্বারা কেউ কেউ বলেছেন, আলোচ্য হাদিসের প্রয়োগক্ষেত্র হচ্ছে নামাজের অজুর সময়ে।
অন্যের পেছনে না লাগা
একবার হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তার ভাষণে উল্লেখ করেন, গত বছর হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এই জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়িয়েছিলেন। এ কথা বলে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) কাঁদতে লাগলেন। তারপর বললেন, তোমরা আল্লাহর কাছে সুস্থতা কামনা কর। কেননা, ইয়াকিনের (দৃঢ় বিশ্বাস বা মজবুত ঈমান) পর কেউ সুস্থতার চেয়ে উত্তম কোনো জিনিস প্রাপ্ত হয়নি। (অর্থাৎ ঈমানের পর সুস্থতা আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত)। তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধর। কেননা, তা পুণ্যের সঙ্গে যুক্ত। এই দুটিই জান্নাতে যাওয়ার উপকরণ। তোমরা মিথ্যাচার থেকে সাবধান থাক। কেননা, মিথ্যাচার পাপাচারের অন্তর্ভুক্ত। এই দুটিই জাহান্নামে যাওয়ার উপকরণ। তোমরা পরস্পরে হিংসা কর না, বিদ্বেষ পোষণ কর না, সম্পর্ক ছেদ কর না। একে অন্যের পেছনে লেগো না। বরং আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ভাই ভাই হয়ে থাক।’ মুসনাদে আহমাদ : ৩৪
আমরা জানি, শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। মানবজাতিকে বিপথগামী করার জন্য আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে ক্ষমতা চেয়ে নিয়েছে শয়তান। শয়তানের কাজই হলো মানুষের মনে খটকা লাগানো, মানুষের পেছনে লাগানো। এ কাজ করতে শয়তান মুমিন-মুসলমানের পেছনে সব সময় লেগে থাকে। সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক থাকা কাম্য।
গ্রন্থনা : মাওলানা আকবর আলী