ফসলি জমির মাটি জোর করে নিয়ে সড়ক সংস্কার

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি সড়কের সংস্কারকাজের জন্য রাস্তার দুপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন দুই ফসলি জমির উর্বর মাটি (টপসয়েল) জোর করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিকরা এ ব্যাপারে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

এ ছাড়া, সংস্কার করতে গিয়ে সড়কটির পুরাতন ইটগুলো বিক্রি করে দেওয়াসহ অনিয়মের বেশকিছু অভিযোগ স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জালশুকা-দরবাড়িয়া সড়কের সংস্কার চলছে। সড়কটির দরবাড়িয়া অংশে বছর সাতেক আগে কার্পেটিং করা হলেও বাকি প্রায় ১ হাজার মিটার অংশ জালশুকা বাজার থেকে ইটভাটা পর্যন্ত ইটের সলিং করা ছিল। গত ১৫ নভেম্বর সড়কের ওই ১ হাজার মিটার পর্যন্ত সংস্কারকাজের অনুমোদন হয়। ৫৩ টন গম বরাদ্দের কাজটি তদারকি করছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়।

কিন্তু কাজের শুরুতেই সড়কের পুরাতন ইটগুলো বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। সড়কের ইটগুলো কিনে নিয়েছে স্থানীয় মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ইট-বালু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। আর নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় দরিদ্র জনবল দিয়ে কাবিখার কাজ করানোর কথা থাকলেও ভেকু মেশিন দিয়ে চলছে প্রকল্পের কাজ। এতে স্থানীয় দরিদ্রদের হক মেরে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, শিডিউল অনুযায়ী মাটি ফেলে সড়ক উঁচু ও প্রশস্ত করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অনিয়মের মাধ্যমে সড়ক ঘেঁষে নদীতীরের মাটি কেটে ভরাট করায় আগামী বর্ষাতেই এটা ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য আমেনা খাতুন ও তার স্বামী জাকিরসহ তাদের সহযোগীরা করছে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকরা গত ২০ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের অন্যতম স্বত্বাধিকারী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই মহিলা মেম্বারের সঙ্গে থাকা সাইফুল নামে এক ব্যক্তি সড়কের পুরাতন ইটগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করেছেন।’

ওই প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আমেনা খাতুন দাবি করেন, ‘শ্রমিক পাওয়া যায় না বলেই ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। রাস্তার ইট বিক্রি করা হয়নি, এগুলো রাস্তাতেই আছে।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারোয়ার আলম মোবাইল ফোনে বলেন, সড়কের পুরাতন ইট আমাদের নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাস্তার ইট বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।