আফগানিস্তানের বালখ প্রদেশের রাজধানীর একটি শরণার্থী শিবিরের চিত্র নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টোলো নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুধা নিবারণের জন্য ওই শরণার্থী শিবিরের অনেকেই সন্তান ও নিজ শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিক্রি করে দিচ্ছেন। গত বিশ বছরে তালেবান ও সাবেক আফগান সরকারের মধ্যকার যুদ্ধের মধ্যে যে বিপুল সংখ্যক আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, তারাই এখন আফগানিস্তানের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সাবেক আফগান সরকারের আমলে কোনো মতে চলতে পারলেও, তালেবান আমলে তাদের জীবনযাপন করাই এখন তীব্র কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সার-ই-পুল, ফারায়েব এবং জাওজান শহরে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত আফগানদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এই বাস্তুচ্যুতদের নিয়ে কাজ করছে এমন একটি দাতব্য সংস্থা খাবার ও নগদ অর্থ নিয়ে তাদের সহায়তার চেষ্টা করছে। আফগানরা যাতে অভাবের তাড়নায় নিজেদের প্রত্যঙ্গ ও প্রিয় সন্তানদের বিক্রি না করে দেয়, সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে সংস্থাটি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তাদের প্রয়াস অনেক ক্ষুদ্র।
টোলো নিউজ জানায়, বাস্তুচ্যুত আফগানরা এখন তাদের সন্তানদের এক লাখ থেকে দেড় লাখ আফগাতে বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে তারা কিডনি বিক্রি করছেন দেড় থেকে দুই লাখ আফগায়। মাজার-ই-শরিফের শিবিরে থাকা পরিবারগুলো বলছে, করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাই তাদের বাধ্য করছে এমন হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত নিতে। বাস্তুচ্যুত এক আফগান বলেন, ‘আমরা সমস্যায় পরিপূর্ণ। আমাদের দিকে কারও খেয়াল নেই। কঠিন সমস্যার মধ্যে আছি আমরা।’ প্রসঙ্গত, বাস্তুচ্যুত প্রত্যেকটি আফগান পরিবারেই অন্তত দুই থেকে সাতটি সন্তান রয়েছে।
সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে নিজের কিডনি বিক্রি করা দিলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অপারেশন শেষে এখন ভালো আছি। আমার শিশুটি অসুস্থ ছিল। তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু ডাক্তার বলে দিয়েছে আমার সন্তানের চিকিৎসা হবে না। দাতব্য সংস্থাটির প্রধান মোহাম্মদ সাদিক হাশিমি বলেন, ‘অনেক বোন আছেন যারা নিজেদের কিডনি বিক্রি করে দিতে চাইছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে কিডনি বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি এমন অনেক পরিবার দেখেছি যারা তাদের সন্তানদের বিক্রি করে দিচ্ছে। আমরা এমন কিছু পরিবারকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি।’ এই বাস্তুচ্যুত আফগানদের নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বর্তমান তালেবান সরকার।