আশুলিয়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার কুরগাঁও নতুনপাড়া থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
অপহৃত যুবকের নাম মাকসুদুল হক (২১)। তিনি নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার দক্ষিণ সাদার চর গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে। সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার গৌরিপুর এলাকার সিবিটি সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টারে ট্রেনিং করছেন।
আটকরা হলেন- দিনাজপুরের পার্বতীনগর থানার মশথপুর গ্রামের মৃত কাজল হোসেনের ছেলে ইয়াছিন (১৯), কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার দিগারহাওলা গ্রামের রুবেল মিয়ার ছেলে অন্তর (২০) ও ঝিনাইদাহ জেলার কালিগঞ্জের মইশা হাটা গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে শাহিন (১৯)। বর্তমানে তারা সবাই আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
অপহৃত যুবকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে মাকসুদুল তার বন্ধুকে গ্রামের বাড়ি খুলনায় যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠিয়ে দিতে নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে আসেন। পরে তাকে একটি গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের দিকে ফিরে যেতে থাকেন।
এমন সময় ফুটওভার ব্রিজ পারি দিয়ে সেনাশপিং কমপ্লেক্স এর সামনে নামলে একটি রিকশা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার উপর উঠিয়ে দেয়। এতে তিনি আহত হলে তাকে চিকিৎসার কথা বলে অপহরণ করে কুরগাও এলাকার মাতৃছাড়া স্কুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে তার নিকটে থাকা নগদ ১৫শ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে মোবাইলের বিকাশ বা রকেটের পিন নম্বর জানতে চায়। পিন নম্বর না বলায় তাকে বেধড়ক মারপিট করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এরপরে তার পরিবারকে ফোনকে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে তার বোন বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫শ টাকা পাঠায়।
এ খবর শুনে তার বন্ধু জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করেন। ফোন পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন অপহরণকারীকে আটক করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একজন পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন-অর-রশিদ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইকরাম (২৫) নামের একজন পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।