দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়

পঞ্চগড়ে আবারও জেঁকে বসেছে শীত। মাঘের শুরুতেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে সর্ব উত্তরের এই জেলা।

শনিবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়ার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শৈত্যপ্রবাহের কবলে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।

ভোর থেকে উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কুয়াশার কারণে রাস্তায় হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। দূরপাল্লার পরিবহন চলছে ধীরগতিতে।

বেকায়দায় পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। পাড়া মহল্লা এবং রাস্তার ধারে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

 তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫-১০০ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩-৬ নটিক্যাল মাইল।

দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাটসহ বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

শীতের প্রকোপ আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। তবে, অতিরিক্ত কুয়াশা ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল থেকে আসা হিমালয়ের শীতল বায়ু প্রবাহের কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীতে কাতর হয়ে পড়েছেন শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠরা।

শীতের মধ্যে বেড়েছে শীতজনিত নানান ব্যাধি। হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে জ্বর-সর্দি, কাশি, অ্যাজমা, সাইনোসাইটিস, ইসনোফিলসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিচ্ছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, এই সপ্তাহের মধ্যে এর থেকে আরও নিচে তাপমাত্রা নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পঞ্চগড়ে বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। আবহাওয়া অফিসের ভাষায়- তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মৃদু শৈত্য প্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

পঞ্চগড় জেলায় হতদরিদ্র, অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, সরকারি-বেসরকারি মিলে জেলায় ৪০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্রের চাহিদা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই আরও শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া যাবে।