দিনের ভোট রাতে হয় এটা দেখিনি : সিইসি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ সেটা অস্বীকার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘দিনের ভোট রাতে হয়, এটা আমি দেখিনি। এটা অভিযোগ আকারে এসেছে, তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসত।’

গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত ‘আরএইডি টক’ বৈঠকে সিইসি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত আদালতের নির্দেশনা ছাড়া হয় না। অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আমি কিছু বলতে পারি না। কারণ, আমি তো দেখি নাই। আপনিও দেখেননি যে রাতে  ভোট হয়েছে। তদন্ত হলে বেরিয়ে আসত, বেরিয়ে এলে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যেত। সারা দেশের নির্বাচনও বন্ধ হয়ে যেতে পারত।’ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পাঁচ বছর, সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে।

সিইসি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের সময় আদালতে যেতে বলেছিলাম প্রার্থীদের। আমরা বলেছিলাম অভিযোগ প্রমাণসহ আমাদের কাছে আসতে। রাজনৈতিক দলগুলো কেন আদালতে অভিযোগ দেয়নি সেটা তাদের বিষয়। এ সুযোগ তারা হাতছাড়া করেছে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকশ কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, এটা কীভাবে সম্ভব হয়েছিল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে নুরুল হুদা বলেন, ‘গেজেট হওয়ার পর বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। এর আগে পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেনি। তাই এ বিষয়ে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি, ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও ছিল না। কোনো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়া অস্বাভাবিক। এটা আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার সীমাবদ্ধতা হলো এটার গেজেট প্রকাশ করা হলে ইসির হাতে কিছুই থাকে না। এটা আইন, এ আইন তো আমি পরিবর্তন করতে পারব না।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সমালোচনা করে সিইসি বলেন, ‘বদিউল আলম মজুমদারকে ব্যক্তিগত সুবিধা না দেওয়ায় তিনি কমিশনের সমালোচনা করছেন। শামসুল হুদা কমিশনের আমলে বদিউল আলম মজুমদারের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কমিশনে।’ তিনি বলেন, ‘আমি কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আমার কাছে কয়েকবার এসেছিলেন, আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমি তাকে কাজ করার সুযোগ না দেওয়ায় তিনি কমিশনের সমালোচনা করেন। অথচ তার বিরুদ্ধে কমিশনে ১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।’

সাবেক সিইসি শামসুল হুদা হঠাৎ করেই ছবক শিখাচ্ছেন উল্লেখ করে নুরুল হুদা বলেন, ‘তিনি এতদিন পরে এসে আমাদের ছবক দিচ্ছেন। শামসুল হুদা ৯০ দিনের পরিবর্তে ৬৯০ দিন পর নির্বাচন করেছেন, এটা কীভাবে সম্ভব? দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা আর সামরিক শাসনের অধীনে নির্বাচন করা এক কথা নয়, এটা তাকে বুঝতে হবে। বদিউল আলম মজুমদারের মতো একজন লোককে তিনি কীভাবে নির্বাচন কমিশনে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।’

তার অধীনে কমিশনের কাজের নানা দিক তুলে ধরে সিইসি বলেন, সাত কোটি ছয় লাখের বেশি স্মার্টকার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। পাঁচ কোটির বেশি বিতরণ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শতভাগ ইভিএমে করা সম্ভব হবে না, তবে ৫০ ভাগ করা যেতে পারে। গত পাঁচ বছরে কমিশনপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজেকে ‘শতভাগ সফল নয়’ দাবি করলেও আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না বলে জানান নুরুল হুদা।

ইসির বিরুদ্ধে ৪২ নাগরিকের করা অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ ছিল মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচন কমিশন আইন হলে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফিরে আসবে কিনা এমন প্রশ্নে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, সার্চ কমিটি ব্যবস্থা ভালো, তবে আইন হওয়া সবচেয়ে বেশি ভালো।

আরএফইডি সভাপতি সোমা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী জেবেলসহ আরএফইডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।