ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানিতে ভারত

এশিয়ার পরাশক্তিধর রাষ্ট্র চীনের সঙ্গে আরেক পরাশক্তিধর রাষ্ট্র ভারতের দ্বান্দ্বিক অবস্থান ক্রমশ বাড়ছে। চীনকে মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার পর এবার নয়াদিল্লি পেইচিংয়ের শত্রুদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন রাজনীতি শুরু করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক রিপোর্ট বলছে, নয়াদিল্লি ফিলিপাইনের কাছে ২ হাজার ৭৭০ কোটি রুপির সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইস বিক্রির চুক্তি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরের কর্র্তৃত্ব নিয়ে চীনের সঙ্গে যে দেশগুলোর বিবাদ রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম ভারত ও ফিলিপাইন। সমরাস্ত্রে দুর্বল ফিলিপাইনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করে চীনকে চাপে ফেলতে চাইছে ভারত সরকার।

এবারই প্রথম ভারত তাদের ব্রাহমোস ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ২৯০ কিলোমিটার দূরপাল্লার। রাশিয়া ও ভারত যৌথভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফিলিপাইনের ধারাবাহিকতায় ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামও ভারতের কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে আগ্রহী হবে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানায়, ‘চীন দক্ষিণ চীন সাগরের প্রতিবেশীদের সঙ্গে যে সম্প্রসারণবাদ এবং শক্তিশালী সামরিক কৌশল খাটাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে এই চুক্তি (ভারত-ফিলিপাইন) কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্ব বহন করছে।’ বলা হচ্ছে, ভারতের কাছ থেকে ফিলিপাইন তিনটি মিসাইল ব্যাটারি পাবে, যেগুলো উপকূলে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে মোতায়েন করা যাবে। এই দূরপাল্লার অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ব্রাহমোসের পার্থক্য হলো এর গতিতে।

সূত্রটি আরও জানায়, ‘ফিলিপাইনের উপকূল প্রতিরক্ষার জন্যই দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে ভারত সরকারের এই চুক্তি হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরও বড় চুক্তি হবে। একইভাবে ইন্দোনেশিয়ায় ব্রাহমোস রপ্তানির আলোচনাও অনেক দূর এগিয়েছে।’ ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে লড়তে ভারতকে সাম্প্রতিককালে নৌমহড়ার মতো আয়োজন করতেও দেখা গেছে। পাশাপাশি চীনের শত্রু দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত সামরিক উপকরণও দিচ্ছে নয়াদিল্লি। ভারত এসব করছে ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অধীনে। একই সঙ্গে ভারত ‘ইউএন কনভেনশন অন দ্য ল অব দ্য সি’ অনুসরণ করে দক্ষিণ চীন সাগরের সুরক্ষায় কাজ করছে।

ভারত এখন নিজেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে উপকরণ তৈরি করতে চাচ্ছে। পাশাপাশি এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রপ্তানিও করতে চাইছে দেশটি। ভারতের এমন সিদ্ধান্তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে একাধিক দেশ; বিশেষ করে ভারতের উদ্ভাবিত ব্রাহমোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি নজর রয়েছে অনেক দেশের। এর মধ্যে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ। শুধু ব্রাহমোস নয়, ভারত তাদের আকাশ মিসাইল সিস্টেমও বিক্রি করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই মিসাইল সিস্টেম বিমান, হেলিকপ্টার, প্রাণ এবং সাবকনসিক ক্রুজ মিসাইলকে ২৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ধ্বংস করতে সক্ষম।

দীর্ঘদিন ধরেই ভারত রাশিয়া ও ইসরায়েল থেকে অস্ত্র কিনে আসছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার শক্তিশালী এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনে নিয়েছে। সীমান্তে চীনকে মোকাবিলায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যে মোতায়েনও করেছে দেশটি। এ নিয়ে চীনের সঙ্গে ঝামেলা চলছে নয়াদিল্লির। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতকে মোকাবিলায় চীন বেছে নিয়েছে ঋণ নামক অস্ত্র। আর ভারত বেছে নিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রকে। সামনের দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়া এই দুই দেশের কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।