পাঁচ দশক ধরে পরমাণু বিদ্যুতের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল সুইডেন। তিনটি পরমাণু চুল্লি থেকে আসে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ। সেই সঙ্গে তৈরি হয় বিপুল বর্জ্যও। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেই বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। তবে সম্প্রতি দেশটি জানিয়েছে, তাদের দেশে পরমাণু বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ৭০ বছর যেখানে নিশ্চিন্তে বর্জ্য জমা করা যাবে। আর সেটি ভরাট হয়ে গেলে এমন ভাবে সিল করে দেওয়া হবে যেন আগামী এক লাখ বছরের মধ্যে ওই বর্জ্য থেকে কোনো বিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
২০২৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে জায়গাটিতে কাজ শুরু হবে বলে সুইডেনের পরিবেশমন্ত্রী জানিয়েছেন। আর ২০২৫ সালের মধ্যে জায়গাটিকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
পরিবেশমন্ত্রীর দাবি, পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই ওই জায়গাটি চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প শুরু হলে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আপাতত পরিবেশ আদালতের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় প্রশাসন।
প্রতি বছর সুইডেনে প্রায় সাড়ে সাত হাজার টন পরমাণু বর্জ্য তৈরি হয়। নতুন জায়গায় ওই বর্জ্য জমা করা যাবে বলে প্রশাসনের আশা।
বস্তুত বিশ্বের অনেক দেশে পরমাণু বর্জ্য জমানোর মতো কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। রেডিওঅ্যাকটিভ বর্জ্য নিয়ে কী করা হবে, তা বহু পরিবেশবিদের চিন্তার অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, পরমাণু বর্জ্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। কারণ তা রেডিওঅ্যাকটিভ হয়।
কিন্তু সুইডেন চাচ্ছে পাইপের মাধ্যমে মাটির তলায় পাথরের নিচে ৫০০ মিটার গভীরে ওই বর্জ্য রাখতে। সেজন্য রাজধানী স্টোকহোম থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরের একটি জায়গা ঠিক হয়েছে। জায়গাটি ভরে গেলে তা বিশেষ ধরনের মাটি দিয়ে সিল করে দেওয়া হবে। এর ফলে আগামী এক লাখ বছরের মধ্যে ওই বর্জ্য থেকে কোনো বিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।