সুন্দরবনের গহীনের খালেরচর থেকে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মরদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। শনিবার সকালে সুন্দরবন থেকে বাঘের মৃতদেহটি বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসে। সেখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জেল হোসেন বাঘটির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করেন।
মৃত্যুর কারণ জানতে বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করে ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। তবে বার্ধক্যজনিত কারণে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে বলে বন বিভাগ দাবি করছে। ময়নাতদন্ত শেষে বাঘটিকে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার এলাকার রুপার খালের চর থেকে মৃত ওই বাঘটির মৃতদেহ উদ্ধার করে বনরক্ষীরা।
শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, শনিবার দুপুরে বাঘটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করা হয়েছে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করে তা ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলেই তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বার্ধক্যজনিত কারণে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শামসুল আরেফিন বলেন, সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকার টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা ফাঁড়ি সংলগ্ন রুপার খাল এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় চরে একটি বাঘকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তখন তারা ওইখানে নেমে বাঘটিকে উদ্ধার করেন।
শনিবার সকালে বনকর্মীরা সুন্দরবন থেকে বাঘটির মৃতদেহ শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসে। বাঘটি পুরুষ। বাঘটি বয়স্ক, তার বয়স হয়েছে আনুমানিক ১৬ থেকে ১৭ বছর। বাঘটির দৈর্ঘ্য ৯ফুট, উচ্চতা তিন ফুট দুই ইঞ্চি। বাঘের শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই।
এর আগে ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালীর বন থেকে একটি এবং ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি একই রেঞ্জের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন কবরখালি খালের চর থেকে আরেকটি মৃত বাঘ উদ্ধার করে বন বিভাগ।