এবার পাওয়া গেল সাফারি পার্কে মাটি চাপা দেয়া বাঘের মৃত্যুর খবর

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে এক মাসের কম সময়ের ব্যবধানে ১১ টি জেব্রার মৃত্যু নিয়ে সারা দেশে যখন তোলপাড় চলছে তখন সেখানে পার্ক কর্তৃপক্ষের গোপন করে যাওয়া একটি বাঘের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

চলতি মাসেই বাঘটির মৃত্যু হয়েছে। তবে অনেকগুলো জেব্রা মৃত্যুর আড়ালে পড়ে যায় এ বাঘের মৃত্যুর খবরটি। বাঘটি গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকলেও ১২ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় এটি মারা যায়। মারা যাওয়া বাঘটি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা একটি পুরুষ বাঘ।

রবিবার দুপুরে পার্কে জেব্রার মৃত্যু নিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পার্কের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. জাহিদুল কবির।

তিনি বলেন, মৃত্যুর পরেই বাঘের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়। মৃত বাঘটির মরদেহ পার্কের ভেতরেই চাপা দেওয়া হয়। এমন খবরটি কেন চেপে রাখা হলো জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

সাফারি পার্কে প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পরেই পার্কে অন্য প্রাণীদের সঙ্গে কয়েকটি বাঘও আনা হয়েছিল। এখন পার্কে একটি সাদা বাঘসহ নয়টি বাঘ রয়েছে বলে জানান পার্কের পিডি মো. জাহিদুল কবির।

পার্ক সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে ডোরা কাটা একটি আফ্রিকান টাইগার বেষ্টনীর ভেতরে কোনো গাছে বা ওয়ালে আঁচর কাটতে গিয়ে সামনের বাম পাশের পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এক সময় চোখে পড়ে বাঘটি খুঁড়িয়ে হাঁটছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আঘাতপ্রাপ্ত বাঘটির চিকিৎসা করছিলেন। মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে থেকে বাঘটি খাওয়া-দাওয়াও কমিয়ে দেয়।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান জানান, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়াতে একটু ভালো হয়েছিল বাঘটি। কিন্তু কয়েক দিন পর বাঘটি খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেয়। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস খেতে দেওয়া হয় বাঘটিকে। কিন্তু অল্প অল্প খেয়ে আর খেত না। পরে চলতি মাসের ১২ তারিখে বাঘটি মারা যায়। বাঘটির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ হওয়াতে বাঘটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এ দিকে, দুপুরে স্থানীয় সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি জেব্রার মৃত্যুর বিষয়ে খবর নিতে আসেন। এ সময় তিনি অন্যসব প্রাণীর সম্পর্কেও খবর নেন। অল্প সময়ে এতগুলো জেব্রার মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সরকার উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করছে আর অবহেলায় সে উন্নয়ন ব্যাহত তবে তা মানা যায় না। 

তিনি বলেন, এ পার্কটি বঙ্গবন্ধুর নামে। এখানে কোনো অবহেলা দেখলে আমাদের আবেগে লাগে। এক সময় পার্কের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনে তাদের ওপর চটে যান তিনি।

জেব্রা মৃত্যু নিয়ে গঠিত বন পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ শেষে ইকবাল হোসেন সবুজ সাংবাদিকদের বলেন, পার্কে জেব্রাগুলো মারা যায়নি, হত্যা করা হয়েছে। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় একে অপরকে ফাঁসানোর জন্য জেব্রাগুলোকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার ধারণা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাংসদ বেশ কিছু জানতে চাইলে আমরা তেমন করে বলতে না পারায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমাদের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক স্যারের সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনেই তিনি খুবই রুক্ষ আচরণ করের।

এদিকে, পার্কের প্রধান ফটকে অপেক্ষা করা বেশ কিছু দর্শনার্থীরা জানান, একটি গাড়িতে করে স্থানীয় সাংসদ পার্কে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে বিনা টিকিটে পার্কের ভেতরে তিন শতাধিক নেতা-কর্মী ঢুকে পড়েন। তারা আরো বলেন, তিনি নেতা-কর্মীদের টিকিট কেটে ঢুকতে বলতে পারতেন।