অভিনয় দিয়ে একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি ভাঙছেন ছোটপর্দার উজ্জ্বল তারকা মেহ্জাবীন চৌধুরীর। যেকোনো উৎসব-আয়োজনে ছোটপর্দায় নির্মাতাদের নির্ভরতার প্রতীক তিনি। আর কেনইবা হবেন না, একের পর এক দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়ে নির্মাতাদের দিচ্ছেন আস্থার প্রতিদান। মেহ্জাবীন বলেন, ‘দর্শকের ভালোবাসা আমাকে ভালো নাটক কিংবা টেলিছবিতে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করে দিয়েছে। শুধু শুধু টিভি পর্দায় মুখ দেখিয়ে লাভ নেই। নাটকের সংখ্যা আমার কাছে মুখ্য নয়। কত ভালো নাটকে অভিনয় করেছি সেটাই প্রধান বিবেচ্য। এ নিরিখেই কাজগুলো করেছি। এখন স্ক্রিপ্ট যাচাই-বাছাইয়ে আমি বেশ সতর্ক। সব সময় ভালো কিছু নিয়ে দর্শকের সামনে হাজির হতে চাই। আমার কাছে দর্শকের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দর্শকের আস্থা সব সময় ধরে রাখতে চেয়েছি।’ ‘সুপার স্টার’, ‘হাতটা দাওনা বাড়িয়ে’, ‘বড় ছেলে’, ‘বুকের বাঁ পাশে’, ‘এই শহরে ভালোবাসা নেই’, ‘একটি অনাকাক্সিক্ষত প্রেমের গল্প’, ‘ব্ল্যাক রোজ’, ‘ফটোফ্রেম’, ‘ছেলেটি অবন্তীকে ভালোবেসেছিল’, ‘বেকার’, ‘ভাইরাল গার্ল’, ‘শেষটা সুন্দর’, ‘শিল্পী’সহ অসংখ্য নাটকে মেহ্জাবীন নিজেকে চেনাজানা মানুষের আদলে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। যাতে চরিত্রটি বানোয়াট বা অতি-কাল্পনিক মনে না হয়। প্রতিটি চরিত্র উপস্থাপনার কলাকৌশল কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পৃথিবী একটা পাঠশালা। সেই পাঠশালার শিক্ষার্থী হয়ে আমি শুধু চারপাশের মানুষগুলো দেখি। বোঝার চেষ্টা করি, কেমন তাদের যাপিত জীবন। কর্মজীবন কিংবা স্বপ্নপূরণের সাফল্য বা ব্যর্থতাকে তারা কীভাবে গ্রহণ করেন। ভাব-ভালোবাসা, রাগ-ক্ষোভ, দুঃখ-কষ্ট-ঘৃণায় কেমন হয় তাদের আচরণ। এই দেখাদেখি থেকে আমি জানার চেষ্টা করি, সমাজ-সংসারের রীতিনীতি; আবিষ্কার করি গহিনে লুকিয়ে থাকা মানুষটিকে। পরোক্ষভাবে হলেও এসব মানুষ আমাকে অভিনয়ের পাঠ গ্রহণে সহযোগিতা করে। এখনো তাই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে চরিত্রকে আত্মস্থ করে নেওয়ার চেষ্টা করি। চোখে দেখা মানুষগুলোর সঙ্গে নিজের চরিত্রটির পার্থক্য খুঁজি। এরপর নিজে কেমন তা ভুলে গিয়ে চরিত্রটির মতো নিজেকে উপস্থাপন করার চেষ্টা থাকে সব সময়। এর পরও কিছু ভুলত্রুটি হয়েই যায়। সেটি শুধরে দেন পরিচালক।’
তাই বলে চরিত্র নিয়ে দিনরাত ভাবনায় ডুবে থাকেন না। শুধু শ্যুটিংয়ের আগে কিছুক্ষণ ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকেন চরিত্রকে আত্মস্থ করার জন্য। কারণ, সহজাত অভিনয় দিয়েই চরিত্রের মধ্যে বাস্তব জীবনের ছায়া তুলে ধরতে চান।
গেল বছরটি ছিল মেহ্জাবীনের জন্য সৌভাগ্যের। তার ১০০টি নাটক ৫০ লাখের বেশি ভিউ অতিক্রম করেছে! তিনিই দেশের প্রথম অভিনেত্রী যার অভিনীত ‘বড় ছেলে’ নাটক ইউটিউব ভিউয়ের দিক থেকে প্রথম কোটির মাইলফলক ছুঁয়েছিল। এর আগে তার ৩৩টি নাটক কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে। তবে ভিউ কত হলো, কী রেকর্ড হলো এসব খোঁজখবর তেমন রাখেন না মেহ্জাবীন। কিন্তু তার ভক্তরা ভিউ নিয়ে বেশ মাথা ঘামান। নিয়মিত এ তথ্য মেহ্জাবীনকে জানান। ১০০ নাটকের প্রতিটি ৫০ লাখের বেশি করে ভিউ ছাড়ানোর বিষয়টিও জানতেন না তিনি। জেনেছেন ভক্তদের মেসেজের মাধ্যমে, যা চমকে দিয়েছে মেহ্জাবীনকে। মেহ্জাবীন বলেন, ‘ভিউ দিয়ে রেকর্ড হলো কি না জানি না, তবে আমি এটা দেখে খুশি হয়েছি যে, দর্শক আমার কাজগুলো আগ্রহ নিয়ে দেখেন, প্রশংসা করেন ও নানাভাবে উৎসাহিত করেন। এতে করে প্রতিনিয়ত কাজের প্রতি দায়িত্ববোধটা বাড়ে। আমিও চেষ্টা করে যাই। যারা আমার কাজগুলো দেখে অনুপ্রেরণা জোগান ও নিজেরাও অনুপ্রাণিত হন প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞতা।’
গত ১৮ ডিসেম্বর ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেহ্জাবীনের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন নির্মাতা আদনান আল রাজীব। যেখানে দেখা যায়, সমুদ্রের পাড়ে কোনো একটি রিসোর্টের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আদনানকে জড়িয়ে ধরে আছেন মেহ্জাবীন। ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে মেহ্জাবীন বলেন, ‘প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগতই থাকা উচিত।’