প্রধান শিক্ষকের ইচ্ছায় এখনো চলছে পাঠদান

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় একটি স্কুলে এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে পাঠদান চলছে সিন্দুর্ণা লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। 

অভিযোগ আছে, প্রধান শিক্ষক আনিচুর রহমান বাবলু চাপ প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য করছেন।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। কিন্তু লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বাবলু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পাঠদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রতিবাদ তুললেও তা তিনি কানে তুলছেন না। এ কারণে বাধ্য হয়েই প্রধান শিক্ষকের চাপে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস করছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

গত শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে চেয়ার পেতে রোদ পোহাচ্ছেন কয়েকজন শিক্ষক। আর একটি শ্রেণিকক্ষে বই হাতে বসে আছে শিক্ষার্থীরা। অন্য আরেকটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে গাদাগাদি হয়ে বসে আছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এ সময় বিদ্যালয়ের এক কর্মচারী ছবি তুলতে নিষেধ করেন।

শিক্ষার্থীরা বলেছে, গত কয়েক দিন ধরেই ক্লাস চলছে। প্রধান শিক্ষক আমাদের আসতে বলেছেন তাই আমরা এসে ক্লাস করছি।

এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক বাবলু বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই তিনি সরকারকে ঝামেলায় ফেলতে ইচ্ছে করেই এসব করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনিচুর রহমান বাবলু লোকমান হোসেন সিন্দুর্ণা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ছাত্রজীবনে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের কয়েকজন বলেন, যেখানে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, সেখানে কোন স্বার্থে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় চালু রেখেছেন তা তাদের বোধগম্য নয়। প্রধান শিক্ষক বাবলু সরকারকে চাপে ফেলতেই ইচ্ছে করে বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু রেখেছেন।

তবে আনিচুর রহমান বাবলু বলেন, বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। শুধু অ্যাসাইনমেন্টের জন্য শিক্ষার্থীরা আসছে।

অ্যাসাইনমেন্ট অনলাইনে নিতে হবে এমন নির্দেশনা থাকার পরও আপনি কেন সশরীরে শিক্ষার্থীদের ডেকে ক্লাস নিচ্ছেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনলাইনে অনেক ঝামেলা তাই তাদের বিদ্যালয়ে ডাকা হয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যদি কেউ এই নিয়ম অমান্য করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লালমনিরহাট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো ক্লাস নেওয়া যাবে না। অ্যাসাইনমেন্ট চলবে, তবে সেটা অনলাইনে। তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সামনে থেকে কোনো ক্লাস নেওয়া যাবে না। যদি কেউ এই নিয়ম অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।