সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ (আইসি) পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে পৃথক কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কের উত্তরে পাহাড়ঘেরা জেলা কারাগারে আলাদা কনডেম সেলে রাখা হয়েছে আলোচিত এই মামলার মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এই দুই আসামিকে।
একজন কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কনডেম সেলে তারা দুজন একেবারেই চুপচাপ, কারও সঙ্গে কথা বলছেন না।
কারা সূত্র জানায়, অন্য কয়েদিদের মতো প্রদীপ ও লিয়াকতকে পরানো হয়েছে কারা পোশাক। এরপর তাদের পৃথক দুটি কনডেম সেলে পাঠানো হয়। কারাগারের অন্য বন্দীদের মতো তাদের খেতে দেওয়া হয় সাদা ভাত, মাছ ও সবজি।
জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরই কনডেম সেলে রাখা হয়। কনডেম সেলে একজনের বেশি আসামি রাখা হয় না। বন্দীকে সার্বক্ষণিক পাহারায় রাখা হয়। অন্য সেলের তুলনায় কনডেম সেল আকারে ছোট। সেলের ভেতর আলো-বাতাস তেমন থাকে না। তবে দিনের নির্দিষ্ট সময় আসামিদের সেলের বাইরে হাঁটাচলার সুযোগ দেওয়া হয়। কনডেম সেলের আসামিরা মাসে এক দিন জেলগেটে গিয়ে দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. নেচার আলম বলেন, প্রদীপ ও লিয়াকত এখন সাধারণ বন্দী। দুজনকে পৃথক দুটি কনডেমড সেলে রাখা হয়েছে। তারা চুপচাপ আছেন। শরীরের অবস্থাও স্বাভাবিক আছে। রাতের খাবার ও সকালের নাশতাও খেয়েছেন দুজন। বাইরের কারও সঙ্গে তাদের দেখা–সাক্ষাৎ হয়নি।
কারাগার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ডের খবর জানতে পেরে অন্য কয়েদিদের মধ্যে অনেকে উল্লাস প্রকাশ করেন।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় সোমবার বিকেলে প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি প্রদীপ ও লিয়াকত ছিলেন নির্বিকার। আদালত থেকে কারাগারে ফেরার পথেও তারা কোনো কথা বলেননি।