ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথের বেশিরভাগ বেদখল

ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথের ফেনী অংশের বেশিরভাগ এখন অবৈধ দখলে। রেললাইনের লোহার পাত, সিøপার খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মুন্সীরহাট, মোহাম্মদপুর, গাইনবাড়ি, বন্দুয়াসহ বহু জায়গায় রেললাইনের চিহ্নও নেই। রেললাইন এখন পরিণত হয়েছে সড়কপথে। দখল হয়ে গেছে রেলওয়ের শত শত কোটি টাকার জমি। তৈরি হয়েছে দালানকোঠা, ঘরবাড়ি, দোকানপাট। বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ২৫ বছর ধরে রেল চলাচল না থাকায় পথটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

রেলপথের স্টেশন ঘরে আগাছা জন্মেছে। দরজা-জানালা খুলে নিয়ে গেছে চোরেরা। ফলে এসব স্টেশন ঘরে এখন ভুতুড়ে পরিবেশ। এ ছাড়া রেললাইনের ওপর দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা বসিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। দখল হয়ে গেছে আটটি স্টেশন ঘর, সরঞ্জাম ও বিভিন্ন সম্পত্তি। এসব ঘটনায় লাকসাম জিআরপি থানায় ২৫-৩০টি মামলা হলেও জমি উদ্ধারে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। এদিকে ২০১৯ সালে পুনরায় এ রেলপথ চালু করার জন্য সমীক্ষা হলেও উদ্যোগটি থেমে আছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি ১৯২৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের জন্য ২৫টি গ্রামের ২৭৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ নির্মাণ করে। ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথের ফেনী রেলস্টেশন থেকে পরশুরাম পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার  পথে বন্দুয়া, দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবক্স মুন্সীর হাট, নতুন মুন্সীর হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম স্টেশন স্থাপন করা হয়।

ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শফিকুর রহমান ভূইয়া জানান, বন্ধ থাকা ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ চালুর বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ রয়েছে।

রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী রীতন চাকমা জানান, ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় এটা তদারকির দায়িত্ব আমাদের কাছে নেই। রেলওয়ে চট্টগ্রাম ভূসম্পদ বিভাগীয় কানুনগো কাওসার আহম্মেদ বলেন, রেললাইনের ওপর দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ এবং সম্পদ বেদখল হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।