ফুল ফোটার কাল এগিয়েছে!

অঘ্রাণের শেষের দিকে পত্রঝরা গাছের সবুজ পাতায় লাগে নানা রং। শীতে প্রকৃতি আরও কিছুটা রুক্ষ হলে সেই পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ে। পুরো শীতকাল জুড়েই থাকে কেবল হিজিবিজি ডালপালা। শীতের শেষে গিয়ে উষ্ণতা কিছুটা বাড়লে ফের নানা রঙের পাতা আর ফুল আসতে শুরু করে ডালে ডালে। প্রকৃতিতে আসে ফুলেল বসন্ত। মানুষ তার হাজার বছরের ইতিহাসে উদ্ভিদকুলের বেশিরভাগ সদস্যকেই প্রকৃতির এই নিয়ম মেনে চলতে দেখেছে। তবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দল গবেষক বলছেন, যুক্তরাজ্যের গাছপালা এখন আর সেই নিয়ম মানছে না। দেশটির বেশিরভাগ উদ্ভিদে স্বাভাবিক সময়ের এক মাস আগেই ফুল ফুটছে।

বিবিসি বলছে, আগে আগে আসা বসন্তকে অনেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে গবেষকরা বলছে, এই ঘটনায় খুশি হওয়ার কিছু নেই। ফুল ফোটার কাল এভাবে এগিয়ে আসতে থাকলে পুরো বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব পড়বে। পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নাটকীয়ভাবে এলোমেলো হয়ে যাবে উদ্ভিদের জৈবিক ক্রিয়া ও উৎপাদন ক্ষমতা। দেখা দেবে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণিকুলের খাদ্য সংকট। গবেষক দলের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক উলফ বান্টজেন বলেন, এটা আমাদের জন্য মোটেই ভালো কোনো খবর না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন এমনসব জায়গায় পড়ছে তা প্রত্যক্ষভাবে মানুষ ও পরিবেশের ওপর ভূমিকা রাখছে। 

এই গবেষকের ভাষ্য, বসন্তের আগেই গাছে গাছে ফুল ফোটার ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের অনেক জায়গায়ই হচ্ছে। তবে একেক জায়গায় একেক রকমের পরিবেশগত প্রভাব পড়ছে। যার সঙ্গে ওইসব এলাকার অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণীরা খাপ খাইয়ে উঠতে পারছে না। তার মানে প্রকৃতির স্বাভাবিকতায় বদল এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশের মহাপ্রলয় ঘটবে। 

গবেষকরা বিভিন্ন সময়ে পর্যবেক্ষণ করা তথ্যের ভিত্তিতে দেখেছেন, ১৭৫৩ সাল থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের উদ্ভিদকুলে যে সময়টাতে ফুল ফুটেছে ১৯৮৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সে সময় ৩২ দিনের মতো এগিয়ে এসেছে। 

এই আগাম ফুল আসায় কীভাবে প্রকৃতিতে প্রলয় হতে পারে সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষকরা বলেছেন, শীতে গাছে ফুল ফুটলে তার ঠাণ্ডায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যে কারণে ওই ফুল থেকে খাবার সংগ্রহ করা মৌমাছি বা পোকামাকড় খাদ্য সংকটে পড়বে। ফল না হলে খাদ্য সংকটে পড়বে পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী।