মোস্তাফিজ-ইমরুল-লিটনে শীর্ষে ফিরল কুমিল্লা

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বল হাতে ৫ উইকেটে শিকার করলেন মোস্তাফিজুর রহমান। পরে ব্যাট হাতে ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস তাণ্ডব চালালেন প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর। ‍সুবাদে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে এক রকম উড়িয়ে বিপিএল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ৯ উইকেটে জয় তুলে নেয় কুমিল্লা। পাঁচ ম্যাচের ৪টিতেই জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে তারা।

দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাওয়া ফরচুন বরিশাল সমান ম্যাচ জিতলেও এক ম্যাচ বেশি খেলেছে।

একদিন আগে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া মইন আলিকে নিয়েই এদিন একাদশ সাজায় কুমিল্লা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারিনও খেলতে নামেন প্রথম ম্যাচ। সব মিলে নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে নামে কুমিল্লা।

তবে মইন, নারিন, ফ্যাফ ডু প্লেসিদের ছাপিয়ে দেশি তারকারাই দ্যুতি ছড়ালেন। মোস্তাফিজুর রহমান বিপিএলে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার নজির গড়লেন। ২৭ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন তিনি।

বৃষ্টিতে ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে তাই ৮ উইকেটে ১৩৮ রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম।

ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে কুমিল্লার লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮ ওভারে ১৪৪। যা তাড়া করতে নেমে প্রথমবার ওপেন করতে নামা ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস উদ্বোধনী জুটিতেই ১৩৮ রান যোগ করেন। ৩৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৩ রান করে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুনের শিকার হয়ে ফেরেন লিটন।

তবে ইমরুল ৬২ বলে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ৫টি ছক্কা। কুমিল্লা ৯ বল হাতে রেখেই ম্যাচ নিজেদের করেছে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম নাহিদুল ইসলামের প্রথম ওভারেই চ্যাডউইক ওয়ালটনকে (০) হারায়। তবে আরেক ওপেনার উইল জ্যাকস ও আফিফ হোসেন সেই ধাক্কা সামাল দেন। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন ৬২ রান যোগ করেন।

আফিফ ২১ বলে ২৭ করে ফিরলে উইকেটে আসেন শামিম হোসেন। তার সঙ্গেও ভালো জুটি গড়েন জ্যাক উইলস।

কিন্তু চট্টগ্রাম ১২.৫ ওভারে ১০৭ রান তুলতেই বৃষ্টি হানা দেয়। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে দৃশ্য পটে আসেন মোস্তাফিজ। ১৪তম ওভারে ২২ বলে ২৬ করা শামীম ও ৩৭ বলে ৫৭ করা উইল জ্যাকসকে তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেন।

পরের ওভারে ফিরে নাঈম ইসলামকে (৩) কট অ্যান্ড বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। দুই বলের ব্যবধানে তুলে নেন বেনি হওয়েলকেও (৩)। ১৮তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকে (৪) ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূরণ করেন ফিজ। ম্যাচসেরাও হয়েছেন ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত জাতীয় দলের এই পেসার।