করোনাকালে অনেক দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ছিল। ফলে একদিকে যেমন খাবারের দোকানের মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তেমনি বাহারি খাবারের স্বাদ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকেছেন ভোজনরসিকরা। তবে সার্বিকভাবে মহামারীর ভয়াবহতা কিছুটা কমতে শুরু করায় অনেক দেশেই খুলতে শুরু করেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ। বাড়তে শুরু করেছে ভোজনরসিকদের আনাগোনা। এজন্য হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাওয়ার কিছু নিয়ম করে দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। আবার অনেকে নিজে থেকেই সতর্ক থেকে পেতে চান খাবারের স্বাদ।
এমন পরিস্থিতির এক সমাধান নিয়ে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি মাস্ক উৎপাদন কোম্পানি। তারা ব্যতিক্রম ধরনের একটি মাস্ক ইতিমধ্যে বাজারজাত শুরু করেছে। বেশ চড়া দামে বিক্রিও হচ্ছে। ১০টি কোস্কের এক প্যাকেটের দাম রাখছে ৯ হাজার ৮০০ ওন বা ৭০০ টাকা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন ধরনের মাস্কটি দিয়ে খাওয়ার সময় শুধু নাক ঢেকে রাখা যাবে। খোলা থাকবে মুখ। ফলে খেতে কোনো সমস্যা হবে না। আবার নিঃশ্বাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
গার্ডিয়ান বলছে, অদ্ভুত ধরনের এ মাস্কটির নাম দেওয়া হয়েছে কোস্ক। দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষায় কো মানে নাক। আর এটি নাকের পরিধেয় বলে এর নাম দেওয়া হয়েছে কোস্ক। তবে বিশেষ এ মাস্কের আছে দুই অংশ। দুটো অংশ যখন জোড়া লাগানো থাকে তখন সাধারণ মাস্কের মতোই সেটি বাইরেও পরা যায়। আর কোনো কিছু খাওয়া বা পান করার সময় নিচে অংশ খুলে নিলেই হয়।
অ্যাটম্যান নামের কোম্পানির তৈরি এ মাস্ককে বলা হচ্ছে কেএফ৮০ মাস্ক। এখানে কেএফ বলতে ‘কোরিয়ান ফিল্টার’। তাদের দাবি, ০.৩ মাইক্রন পর্যন্ত খুদে জীবাণুদেরও ৮০ শতাংশ পর্যন্ত রুখতে সক্ষম এই কোস্ক। তবে এ অদ্ভুত ধরনের মাস্ক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে বিস্তার। কেউ বলেছেন, এমন মাস্ক পরা আর না পরার মধ্যে তফাৎ নেই। আবার কেউ বলছেন, কিছু না পরার চাইতে এটা পরা অনেক ভালো।