এ কথা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই, নারীর প্রতি পুরুষের কু-দৃষ্টি সহিংসতার বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ী। যদিও কু-দৃষ্টি রোধকল্পে পবিত্র কোরআনে পুরুষদের তাদের দৃষ্টি নত রাখার আদেশের পাশাপাশি যাবতীয় অশ্লীলতা ও সব ধরনের বেহায়াপনা থেকে বেঁচে থাকার কথা বলা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘নারী’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ কবিতাটি তিনি শেষ করেছিলেন এভাবে, ‘সেদিন সুদূর নয়, যেদিন ধরণী পুরুষের সঙ্গে গাহিবে নারীরও জয়!’ কিন্তু সে ‘সুদূর নয়’ যে আসলে কত দূর, তা আজও আমাদের অজানা। আজও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, স্বীকৃতিবিহীন নারীর শ্রম, পারিবারিক সহিংসতা, অর্থ-সম্পত্তির ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণহীনতার বিষয়গুলো নারীর ক্ষমতায়িত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্রমাগত ব্যাহত করে চলেছে। এভাবেই নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের ফলে বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়।
নারী নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধে পবিত্র কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।’ সুরা নুর : ৩০
নারীদের মায়ের মর্যাদা দিয়ে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার এক লোক নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? নবী (সা.) বললেন, তোমার মা। ওই লোক জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার মা। ওই লোক আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? এবারও তিনি উত্তর দিলেন, তোমার মা। সহিহ্ বোখারি
ইসলাম বিধবা নারীর অধিকার ও সম্মান দিয়েছে। বিধবাদের অধিকার সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যারা বিধবা নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয়, তারা যেন আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং নিরলস নামাজি ও সদা রোজা পালনকারী। সহিহ্ বোখারি
জীবন দর্শনের প্রতিটি পর্বে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণে ইসলামের বিধান রয়েছে। কিন্তু মানুষ তা মানছে না বলেই নানাবিধ অশান্তির ঘটনা ঘটে। আরেকটি বিষয়, ইসলাম বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের ন্যায্য অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপর। তাই নারী নির্যাতন ও নিপীড়ন বন্ধে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। আর ইসলামের বিধানগুলো নারীর অগ্রযাত্রা কিংবা উন্নতির জন্য কোনো প্রতিবন্ধক নয়।