চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাঁকগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা। বিশেষ করে, চন্দনাইশের বাগিচাহাটের পাশে দক্ষিণ হাশিমপুর ভান্ডারীপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের বিপজ্জনক বাঁক ‘মন হনিমারটেক’ যেন মৃত্যুফাঁদ। এই বাঁকে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। মন হনিমারটেক ছাড়াও কর্ণফুলী সেতু থেকে চন্দনাইশের দোহাজারী শঙ্খ নদীর ব্রিজ পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার সড়কে ৪০ থেকে ৪৫টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। যেগুলোর প্রতিটিই মরণফাঁদ।
গাড়ি চালকদের দাবি, বিপজ্জনক এ বাঁকগুলোর কারণে ৪৫ কিলোমিটার (চন্দনাইশের দোহাজারী শঙ্খ সেতু থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত) সড়ক পাড়ি দিতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।
বিপজ্জনক অন্য বাঁকগুলো হচ্ছে পটিয়ার মইজ্জারটেক, পটিয়া-আনোয়ারা ক্রসিং, মনসারটেক, বাদামতল, গৈড়লারটেক, নিমতল দরগা, আমজুরহাট, পটিয়া পোস্ট অফিস, আদালতগেট মোড়, থানার মোড়, ডাকবাংলোর মোড়, বাসস্টেশন, কমলমুন্সীর হাট, রৌশনহাট, বাদামতল, খাঁনহাট, কলেজ গেইট, বাগিচাহাট, বড়পাড়া, দোহাজারীসহ ৩০টি পয়েন্ট। এছাড়াও মহাসড়কের বাকি অংশেও একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাঁক সোজা করার একটি প্রকল্প কয়েক বছর আগে গ্রহণ করা হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। ফলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা কমছে না।
এদিকে, পুলিশের দাবি, মহাসড়কের এসব বিপজ্জনক বাঁকের কারণে যেমন দুর্ঘটনা ঘটছে তেমনি প্রশিক্ষণবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, তড়িঘড়ি করে ওভারটেক, বেপরোয়া গতি, ভাঙাচোরা সড়ক ও ট্রাফিক আইন না মানার কারণেও প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
এছাড়া, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সিএনজিচালিত শত শত অবৈধ অটোরিকশা উঠে যাচ্ছে মহাসড়কে। ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে এ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। যদিও পুলিশের কাছে হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এ মহাসড়কে অর্থাৎ চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজের পরের বাঁকেই নিহত হন নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সহধর্মিণী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরও এ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে স্পিডব্রেকার ছিল। কিন্তু সড়ক সংস্কার করার সময় সেটা তুলে নেওয়া হয়। পরে বিপজ্জনক বাঁকে স্পিড ব্রেকারগুলো আর না বসানোয় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে কয়েকগুণ।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কটি অনেক সরু। এছাড়া কিছু দূর অন্তর রয়েছে বিপজ্জনক সব বাঁক বা মোড়। এছাড়া প্রশিক্ষণবিহীন চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।’
দোহাজারী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ১৮ ফুট অংশগুলোকে দুই লেনে অর্থাৎ ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করছি।