হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন মাহাথির

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। গত শুক্রবার ৯৬ বছর বয়সী এ রাজনীতিককে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানায় ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট কর্র্তৃপক্ষ (আইজেএন)। খবর রয়টার্সের।

বাড়ি ফিরলেও আপাতত মাহাথিরের সঙ্গে কোনো দর্শনার্থী দেখা করতে পারবেন না। মালয়েশিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের এ প্রধানমন্ত্রী গত ২২ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানী কুয়ালালামপুরের আইজেএনে ভর্তি করা হয়। মাঝে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর খবর বের হলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তার মেয়ে মেরিনা মাহাথির বলেন, ‘আমার বাবা আগের চেয়ে সুস্থ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।’ গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসা পেশা থেকে রাজনীতিতে আসা মাহাথির মোহাম্মদকে আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি বলা হয়। ১৯৮৯ ও ২০০৭ সালে দুবার তার বাইপাস সার্জারি করা হয়।

১৯২৫ সালের ১০ জুলাই মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশের আলোর সেতার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মাহাথির। পড়াশোনা শেষে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ওই পেশায় ছিলেন। চিকিৎসক থাকা অবস্থায় ১৯৬৪ সালে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড মালয়েস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনে (ইউএমএনও) যোগ দিয়ে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও ১৯৭৬ সালে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন মাহাথির মোহাম্মদ। টানা ২২ বছর এ পদে আসীন থাকার পর ২০০৩ সালে স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর নেন তিনি। তারপর জাতীয় রাজনীতির স্বার্থে ফের ২০১৮ সালে নিজের গড়া দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হন। ২০২০ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন। শুধু মালয়েশিয়া নয়, এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড দখলে রয়েছে মাহাথির মোহাম্মদের।