চাঁদপুরে তীব্র শীতে হলুদ হয়ে যাচ্ছে পান পাতা

চাঁদপুরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় হলুদ হয়ে যাচ্ছে পান পাতা। পানের বরজে লতা থেকে পান ঝরে পড়ছে। এতে করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন হাজারো  চাষি। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারিভাবে সহায়তার পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তা চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের সাধ্যমতো বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল সংকট ও পান চাষিদের জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত কার্যক্রম না থাকায় কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পান চাষের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয় অনেক কৃষক জীবিকা নির্বাহ করেন পান চাষাবাদ করে। তবে চলতি মাঘ মাসে পড়া তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টে উৎপাদিত পান।

সরেজমিন হাইমচর উপজেলার মহজমপুর, আলগী উত্তরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানের বোরোজে লতায় থাকা পান পাতা হলুদ হয়ে যাওয়াসহ ঝরে পড়ছে মাটিতে। পান চাষাবাদে খরচ বৃদ্ধির বিপরীতে পান ঝরে পড়া সমস্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে হাজারো কৃষক।

মহজমপুর এলাকার পান চাষি ফজল আলী বলেন, শীতকালে পানের লতা বড় হয় না। তা ছাড়া চলতি মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি ও ঘন কুয়াশার কারণে পান পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে এবং পাতা ঝরে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। এসব পান বাজারে তেমন দাম পাওয়া যায় না বললেই চলে। ১০০ টাকার পান বেচা লাগে ২০-৩০ টাকায়। এতে করে পান চাষাবাদের খরচ দিয়ে লাভতো দূরে থাক চালানই উঠে আসে না।

আরেক পান চাষি আবু তাহের বলেন, এই শীতে পান চাষাবাদ করে আমরা পান চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হলেও কৃষি বিভাগের কোন মানুষ আমাদেরকে কোন প্রকার বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন না। তা ছাড়া সরকারও আর্থিকভাবে আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। এভাবে চললে পান চাষাবাদ ছেড়ে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

এ ব্যাপারে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, শীত ও কুয়াশায় কিছু পান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পান চাষিদের ক্ষতি কমাতে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগের লোকজন। তবে লোকবল সংকটে অনেক সময় সকল কৃষকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় মোট প্রায় ২৩৭ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়। এর মধ্যে হাইমচর উপজেলার ২২০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কৃষক পান চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার পান কেনাবেচা হয়ে থাকে এখানে।

হাইমচরে মহানলী, চালতা বোটা ও নলডোগ এই তিন জাতের পান চাষ হয়ে থাকে। উপজেলার মহজমপুর, আলগী উত্তর, আলগী দক্ষিণ ও চরভৈরবীসহ বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি পান চাষ করা হয়।

হাইমচরে উৎপাদিত পান চাঁদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ফেনী, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে।