আসামে সরকারি অনুদানের মাদ্রাসা থাকছে না

ভারতের আসাম রাজ্যে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলোর নিজস্ব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে। আসামের গৌহাটি হাইকোর্ট গত শুক্রবার এ রায় দিয়েছে বলে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

আদালত বলেছে, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলো এখন থেকে সাধারণ স্কুলের মর্যাদায় পরিচালিত হবে এবং স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে থেকে তাদের কাজ করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া ও বিচারপতি সৌমিত্র শইকীয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বলে, ‘আমরা একটি গণতন্ত্রে বাস করি। এখানে আইনের চোখে সব ধর্ম সমান। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের শামিল হবে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কাঠামোর অর্থ হলো সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় নীতি-নির্দেশ দেওয়া যাবে না।’

২০২০ সালে আসামের শিক্ষাসংক্রান্ত আসাম মাদ্রাসা এডুকেশন আইন-১৯৯৫ ও আসাম মাদ্রাসা এডুকেশন (রিঅর্গানাইজেশন) ২০১৮ দুটি আইনকে সংশোধন করে নতুন একটি আইন করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় আসাম রিপিলিং অ্যাক্ট-২০২০।

এ আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন পেশার ১৩ জন হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন, যা শুক্রবার খারিজ করে আসাম হাইকোর্ট বলল, আইনটি বৈধ।

আবেদনকারীরা বলেছিলেন, সংবিধানে সব ধর্ম অনুশীলনের যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, এ আইন সেই অনুমতিকে লঙ্ঘন করছে। আদালতে আসাম সরকারের আইনজীবী জেনারেল ডি শইকীয়া বলেন, অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসার ক্ষেত্রেই এ আইন প্রযোজ্য হবে। যে মাদ্রাসাগুলো সম্প্রদায় থেকে চালানো হয় বা কওমি মাদ্রাসা ও মক্তব, তারা এ আইনের আওতায় পড়বে না। ফলে এটি কোনোভাবেই সংবিধানকে লঙ্ঘন করছে না।

নতুন আইনের ফলে শুধু ধর্মীয় শিক্ষা এবং নীতি-নির্দেশনাই বন্ধ হয়ে যাবে তা-ই নয়, মাদ্রাসা ব্যবস্থার মধ্যে থেকে নতুন ছাত্র নেওয়া যাবে না। বস্তুত ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় ছাত্র ভর্তি বন্ধ আছে। রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে এবং তার সব নথি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্কুল শিক্ষা পর্ষদের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা তুলে দিয়ে সাধারণ স্কুলে যা পড়ানো হয় সেই ব্যবস্থাও সরকার চালু করেছে।