পশ্চিমবঙ্গে চালু ‘পাড়ায় শিক্ষালয়’

করোনা মহামারী পরিস্থিতির কারণে বিশ্বে শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার অবস্থায়। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে নতুন করে অনেক দেশ স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে গত সোমবার থেকে চালু হয়েছে ‘পাড়ায় শিক্ষালয়’ প্রকল্প। সকাল থেকেই চলছে স্কুলের খোলা মাঠে খুদে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। স্কুলে গিয়ে আবারও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় খুশি শিক্ষার্থীরা।

প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পড়–য়াদের আবারও স্কুলের পরিবেশে ফেরাতে গত মাসেই ‘পাড়ায় শিক্ষালয়’ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। স্কুলের ভেতরে নয়, পার্ক-খোলা মাঠ কিংবা অন্য কোনো খোলা জায়গায় কমিউনিটি শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাতে প্রাথমিক শিক্ষা বা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দূরে না ছুটতে হয় শিক্ষার্থীদের।

কভিড বিধি মেনেই শুরু হয় পাঠদান। পড়–য়াদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে মানা হচ্ছে শারীরিক দূরত্ববিধিও। ‘পাড়ায় শিক্ষালয়ে’ রান্না করা খাবারও দেওয়া হবে পড়–য়াদের। দুই বছর পর স্কুলের আমেজ ফিরে পাওয়ায় খুশি শিক্ষার্থীরা। কেউ ক্লাস টু-তে কিংবা থ্রি আবার কেউ প্রথমবার স্কুলে এসে বন্ধু-বান্ধবের দেখা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়।

শিক্ষার্থীরা অনলাইনের পরিবর্তে নিজে এসে আবারও ক্লাসে যোগ দেওয়ায় খুশি অভিভাবকরাও। তবে তাদের মতে, স্কুলে শুরু হোক ক্লাস। নয়তো রোদ কিংবা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়তে পারেন সকলেই। ফলে আবারও ব্যাহত হতে পারে পাঠদান। তাই তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্কুলেই শিক্ষার্থীদের ফেরাতে চান অভিভাবকরা।

মাঝে বার কয়েক স্কুলগুলো আংশিকভাবে খোলা হলেও তা বেশিদিন খুলে রাখা যায়নি। করোনার বাড়বাড়ন্তের জেরে আবার বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল। আর সে সময়ে পড়ুয়াদের ভরসা ছিল একমাত্র অনলাইন ক্লাস। কিন্তু তাতেও সমস্যা। অনেকের কাছেই স্মার্টফোন নেই। আবার অনেকের ফোন থাকলেও নেটওয়ার্কের সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে জানা গেছে, স্কুলের অন্দরে নয়, পার্ক বা খোলা মাঠ কিংবা অন্য কোনো খোলা এলাকায় এই শিক্ষালয় চলবে। অনলাইনের পরিবর্তে অফলাইনে পুনরায় ক্লাস চালু হওয়ায় খুশি অভিভাবকরা। একাংশের দাবি, স্কুল অবিলম্বে শুরু হোক। না হলে রোদ-বৃষ্টিতে বিপাকে পড়তে পারে খুদেরা।