শেষ ধাপের নির্বাচনও শেষ সহিংসতায়

শেষ হলো সারা দেশে চলমান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। গতকাল সোমবার সপ্তম বা শেষ ধাপের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। এই সাত ধাপের নির্বাচনে অনেকগুলো নজির তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের সংখ্যা। সংসদের বাইরে বড় বিরোধী দল বিএনপি অংশ না নিলেও শুরু থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সহিংসতা এবং এসব সহিসংতায় প্রায় ১০০ জনের প্রাণ গেছে। আবার এসব নির্বাচনে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি বিদ্রোহী তথা স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

গতকাল সোমবারও শেষ ধাপের এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বড় একটি সহিংসতার মধ্য দিয়ে। এদিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সংঘাতে দুজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে নলুয়া ইউনিয়নে মো. তাসিব (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র দায়ের কোপে এবং বাজালিয়া ইউনিয়নে আবদুস শুক্কুর (৩৫) নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। নলুয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস ভোটকেন্দ্রের বাইরে থাকা তাসিবকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন প্রতিপক্ষ মনে করে কুপিয়ে হত্যা করে বলে ধারণা তার স্বজনদের। অন্যদিকে বাজালিয়া ইউনিয়নে বোর্ড অফিস ভোটকেন্দ্রের বাইরে বেলা ১১টার দিকে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে মৃত্যু হয় আবদুস শুক্কুরের। তিনি ওই ইউপিতে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারী ছিলেন। এ নিয়ে সাত ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় কমপক্ষে ৯৭ জনের প্রাণ গেল।

গত সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন নিয়ে ইসির তথ্য ও আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে জানা গেছে, সাত ধাপ মিলিয়ে ৩ হাজার ৯শর বেশি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ছয় ধাপের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন ২ হাজার ৯৭ জন নৌকার প্রার্থী। আর স্বতন্ত্ররা জয় পেয়েছের ১ হাজার ৬৯২টিতে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হওয়ার প্রমাণ মিললে চাকরিচ্যুত করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। গতকাল সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ইসির অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘অনিয়মে জড়িত ইসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেকে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। অনেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এগুলোর তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি চলে যাওয়ার মতো স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।’

সপ্তম ধাপের নির্বাচন সম্পর্কে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘সোমবার ১৩৬টি ইউপিতে ভোট হয়েছে। ব্যালট পেপারে বিকেল সাড়ে ৫টার তথ্য অনুযায়ী ভোট পড়েছে ৬৫ শতাংশের মতো। আর ইভিএমে পড়েছে ৬১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গণনা শেষ হলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।’ সহিংসতা সম্পর্কে তিনি বলেন, দুজন ব্যক্তি নির্বাচনী সংহিসতায় মারা গেছেন। তারা ভোটকেন্দ্রের বাইরে স্থানীয় গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারিতে নিহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্থানীয় প্রশাসন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওভার অল নির্বাচন ভালো হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রমুখী হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে।’

অশোক দেবনাথ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জীবনহানি আশা করে না। কিন্তু এরপরও অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। এক্ষেত্রে কমিশনের ব্যর্থতা নেই। কারণ, সহিংস ঘটনাগুলো স্থানীয়ভাবে সংঘটিত হয়। সরাসরি কমিশনের কোনো দায় নেই। এটা স্থানীয় প্রশাসন দেখবে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা মোতাবেক অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে থাকি।’

ইসি সূত্র জানায়, সপ্তম ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে ৭১ জন জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ জন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৩ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৪৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

সাতকানিয়ার সহিংসতা : সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচনে গতকাল সাতকানিয়ার ১৬টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তার মধ্যে আরও কয়েকটি ইউপিতে গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সকালে খাগড়িয়া ইউনিয়নের গণিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাগড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ১৭ নম্বর সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন চৌধুরীর ওপর হামলা এবং সেখানকার কয়েকটি কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নলুয়া ইউনিয়নে কুপিয়ে হত্যা করা তাসিব স্থানীয় মরফলা আরএমএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে একই ইউনিয়নের মরফলা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

বাড়ির পাশের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মরফলা বোর্ড অফিস ভোটকেন্দ্রের সামনে তাসিব মারা যায়। তাকে কুপিয়ে হত্যার আগে কেন্দ্রটিতে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী লিয়াকত আলীর লোকজন অবস্থান নিলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়ানো তাসিবকে কুপিয়ে চলে যায় কয়েকজন। শেষে নৌকার প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ ঘটনার পর বেলা ১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার রশিদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিহত তাসিবের চাচা মিজানুর রহমান নলুয়া ইউপি নির্বাচনে সদস্য প্রার্থী। কেন্দ্রের বাইরে থাকা তাসিবকে প্রতিপক্ষ মনে করে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে তার স্বজনরা।

চাচা মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন্দ্রের বাইরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীরা মারামারি করছিল। একপক্ষ তাসিবকে কারও সমর্থক মনে করে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাতিজা তো ভোটারও হয়নি। তার সঙ্গে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তো কোনো বিরোধিতা থাকার কথা নয়। অন্যদের মতো সেও ভোটগ্রহণ দেখতে এসেছিল। কিন্তু তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।’

স্কুলছাত্র তাসিবের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মরফলা গ্রামে তার বাড়িতে শুরু হয় মাতম। তাসিবের লাশের পাশেই তার রিকশাচালক বাবা জসিম উদ্দিনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির আশপাশের পরিবেশ। তাসিব সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। জসিম উদ্দিনের দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে তাসিব সবার বড়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে জসিম পাগলপ্রায়। তার আহাজারি দেখে পাড়া-প্রতিবেশীরাও কাঁদছিলেন।

তাসিবের মা সখিনা বেগমও কান্নায় বুক ভাসাচ্ছিলেন। বেলা ১টার দিকে তাসিবের মরদেহ বাড়িতে খাটে শোয়ানো অবস্থায় ছিল। তার দুই বোন খাটের পাশে বসে ভাইয়ের মাথায় হাত বুলাচ্ছিল। ছোট্ট ঘরটিতে তখন পাড়া-প্রতিবেশীদের তিল ধারণের জায়গাও ছিল না।

বাজালিয়া ইউনিয়নে গুলিতে নিহত আবদুস শুক্কুর ওই ইউপিতে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাপস কান্তি দত্তের অনুসারী ছিলেন। তিনি একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে বাজালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাপস কান্তি দত্তের সমর্থকদের সঙ্গে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের মো. শহিদুল্লাহ চৌধুরীর সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে শুক্কুর গুলিবিদ্ধ হন। তাকে স্থানীয় কেরানীহাট মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নলুয়া ও বাজালিয়া ইউপিতে সহিংসতা ছাড়াও দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর গতকাল সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রতিদ্বন্দী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগের আকতার হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে ওই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা কেন্দ্রগুলো হলো- খাগরিয়া গনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্র।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই দুটি কেন্দ্র দখলে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রথমে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ হলেও পরে দুই পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে চড়াও হয়। গোলাগুলি শুরুর পর ভোটকেন্দ্র থেকে সাধারণ ভোটাররা পালিয়ে যান।

এছাড়া ১৭ নম্বর সোনাকানিয়া ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন চৌধুরীর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, এই ইউপির ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়।

চলমান ইউপি নির্বাচনের সপ্তম ও শেষ ধাপে গতকাল দেশের ২০ জেলার ২৪ উপজেলার ১৩৮ ইউনিয়নে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৩৮ ইউপির মধ্যে ৯টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হয়। বাকিগুলোতে ভোট নেওয়া হয় ব্যালটে।

সপ্তম ধাপে ইউপির তিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৫ হাজার ৮৭৪ জন প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৭৬ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫৭৬ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪ হাজার ৬২ জন ভোটের মাঠে ছিলেন।

সাত ধাপে সহিংসতায় নিহত ৯৭ : এবারের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় প্রার্থীসহ প্রায় একশ’ মানুষের প্রাণ গেছে। তবে সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ছিল। আগের ধাপগুলোতে সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনে তেমন ঘটেনি। শুধুমাত্র এই ধাপের ভোটের দুদিন আগে ২৯ জানুয়ারি জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে একজন নিহত হন।

এর আগে বিগত ৫ ধাপের নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিন পর্যন্ত। সংসদের বাইরে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এই নির্বাচনে সরাসরি অংশ না নেওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের বিদ্রোহীদের প্রার্থীদের মধ্যেই তুমুল প্রতিযোগিতা হয়েছে। সবশেষ গতকাল নিহত দু’জনসহ গত ৭ মাসে নির্বাচনী সংঘাত ও হানাহানিতে সারা দেশে কমপক্ষে ৯৭ জন নিহত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে। দ্বিতীয় ধাপে ৩০ ও তৃতীয় ধাপে ২৬ জন নিহত হয়েছে। গত বছরের ২১ জুন ইউপি নির্বাচন শুরু হয়। প্রথম ধাপের নির্বাচন দুই ভাগে হয়। প্রথম ধাপের দ্বিতীয় ভাগ থেকেই সহিংসতা বাড়তে থাকে। প্রথম ধাপে ৫ জন, চতুর্থ ধাপে ১০, পঞ্চম ধাপে ২৩ ও ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় একজনের মৃত্যু হয়।

 এর আগে ৬ষ্ঠ ধাপে  জামালপুরে সহিংসতায় একজন নিহত হওয়া ছাড়া বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। তবে ষষ্ঠধাপের ২১৮ ইউপি নির্বাচনের ২১৬টিই ইভিএম পদ্ধতিতে হওয়ায় প্রায় সব কেন্দ্র থেকেই  ভোটারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে। ভোটারদের কাছে পদ্ধতিটি নতুন হওয়ায় তারা অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। আবার ভোট দিতে অনেক বেশি দেরি হয়েছে। অনেক পরাজিত প্রার্থী হারের জন্য ইভিএমের ধীরগতিকেই দায়ী করেছেন।

ফলে তৃতীয় , চতুর্থ  ও পঞ্চম ধাপের ধাপের নির্বাচনের আগে ও পরের সহিংসতার ধারাবাহিকতার জের ধরে গত সোমবার দেশের ২২ জেলার ২১৮টি নির্বাচন নিয়েও এক ধরনের শঙ্কা ছিল। আবার পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে  বিদ্রোহী তথা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের পাল্লা ভারী থাকায় ক্ষমতাসীনদের মধ্যে অনেক বেশি অস্বস্তি ছিল। ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনের ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট থাকলেও জয়ের সংখ্যায় এবার নৌকার পাল্লা ভারী। ফলে সেদিক থেকেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে আওয়ামী লীগের মধ্যে।

গত ৫ বছরের তুলনায় ৬ষ্ঠ ধাপের  নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করায়  বিদায়ী নুরুল হুদা কমিশনের প্রতিও কিছুটা ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারির নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। কিন্তু সপ্তম ধাপে এসে আবারও সহিংসতা হওয়ায় ইউপি নির্বাচন বিষয়ে সমালোচনা নিয়েই বিদায় নিতে হবে নুরুল হুদা কমিশনকে।

এই নির্বাচন সম্পর্কে সুজন সম্পাদক ও নির্বাচন বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৫ বছরে এই ইসি বিতর্কিত অবস্থানে ছিল। আর নাসিক নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে , আমরা প্রশংসা করেছি। আমরা বলেছি ইসি চাইলে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব। তবে ইউপির এসব নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা। কাজেই গত ৫ বছরের বিতর্কিত কাজ এই ইসি কিছুতেই এড়াতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘নুরুল হুদা কমিশনের কাছ থেকে ভালো নির্বাচন আশা করার কোনো কারণ নেই। গত ৫ বছরে তারা একটিও ভালো কাজ করেনি।’

সাত ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৭৩

সাত ধাপে এবার  রেকর্ড সংখ্যক ৩৭৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন চেয়ারম্যান পদে। এছাড়া সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সহস্রাধিক নির্বাচিত হয়েছেন।

ষষ্ঠ ধাপে ১২ জন, পঞ্চম ধাপে ৫২ জন, চতুর্থ ধাপে ৪৮ জন, তৃতীয় ধাপে ১০০ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৮১ জন ও প্রথম ধাপে ৬৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এরমধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, বাকিরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এর আগে চেয়ারম্যান পদে ২১২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড ছিল। ১০ ফেব্রুয়ারি ৮  ইউপিতে ভোটগ্রহণ করবে ইসি।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধিরা।