বৃষ্টির পরে শুরু হওয়া শীতের তীব্রতা থাকতে পারে আরও কয়েকদিন। রবিবার আট জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের তথ্য জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, আগামী কয়েক দিনে এই শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা ও এলাকা বাড়তে পারে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে মাঝারি কুয়াশা ও শীত অনুভূতি আরও তীব্র করতে পারে বলে বলছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে গতকাল সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পঞ্চগড়সহ নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, মৌলভীবাজার জেলাসমূহে এবং সীতাকুন্ড উপজেলার ওপর দিয়ে যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত ও বিস্তার লাভ করতে পারে।
এছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও পূর্বাভাসে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বাড়তি অংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত রয়েছে।
এদিকে পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলা জুড়েই দুদিন ধরে বিকেলের পর থেকে কুয়াশা শুরু হয়। রাতভর টিপটিপ করে বৃষ্টির মতো ঝরে কুয়াশা। দুপুরের দিকে কিছু সময় রোদের ঝলক দেখা গেলেও তাপ ছড়ানোর আগেই আবারও ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় আকাশ।
সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শৈত্যপ্রবাহের কারণে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগে রয়েছেন দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষ। স্থবিরতা দেখা গিয়েছে জনজীবনে। লোকজন ও যানবাহনের উপস্থিতি কমে যায়। তাপমাত্রা বাড়লেও আকাশ গুমোট থাকায় মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি। রাস্তাঘাটও ছিল ফাঁকা। এ অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কাজকর্ম না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বিশেষ করে চা বাগানে পাতা উত্তোলন বন্ধ থাকায় এবং শীতকালে নদী থেকে পাথর উত্তোলন করতে না পারায় চা ও পাথর শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শীতের মধ্যেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে আসা মানুষরা ভিড় করছেন। একদিকে খাদ্য সংকট অন্যদিকে গরম কাপড়ের অভাবে এখানকার মানুষের কষ্ট বেড়েছে।