ধনকুবের জেফ বেজোসের নতুন মেগাইয়ট নিয়ে ভালোই হইচই শুরু হয়েছে নেদারল্যান্ডসে। প্রায় ৫০ কোটি ডলার খরচে বানানো বিলাসবহুল প্রমোদতরীটি সাগরে ভাসাতে, অন্যভাবে বললে বেজোসের কাছে পৌঁছাতে রটারডামের ঐতিহাসিক একটি সেতু খুলে ফেলতে হবে। এতে নগর কর্র্তৃপক্ষের সম্মতি থাকলেও বাদ সেধেছেন স্থানীয় জনগণ। তারা কিছুতেই শহরের ঐতিহ্যে হাত লাগাতে দেবেন না। তবু শেষ পর্যন্ত যদি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনড় থাকে, তাহলে বেজোসের নতুন মেগাইয়টে পচা ডিম মেরে এর প্রতিবাদ জানানোর পরিকল্পনা করছেন নগরবাসী।
ইনসাইডারের প্রতিবেদন বলছে, রটারডামের বাসিন্দারা ‘থ্রোয়িং এগস অ্যাট জেফ বেজোসেস সুপারইয়ট’ নামে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট চালু করেছেন। এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, রটারডামারদের আহ্বান জানাই, এক বক্স পচা ডিম নেন এবং চলুন ডে হেফ (সেতুর নাম) দিয়ে যাওয়ার সময় সবাই বেজোসের সুপারইয়টে সেগুলো ছুড়ে মারি।
প্রতিবাদীদের ভাষ্যমতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে রটারডাম শহরটি তৈরি হয়েছে এর মানুষের মাধ্যমে। আমরা সেটিকে এক মেগালোম্যানিয়াক (ক্ষমতার মোহে অন্ধ) বিলিয়নেয়ারের জন্য ছুড়ে ফেলতে পারি না। অন্তত বিনাযুদ্ধে তো নয়ই! এখন পর্যন্ত এ ইভেন্টে সাড়ে ১২ হাজার মানুষ আগ্রহ দেখিয়েছেন, সরাসরি অংশ নিতে চেয়েছেন সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। আগামী ১ জুন এই ইভেন্ট, অর্থাৎ বেজোসের মেগাইয়টে পচা ডিম মারার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের আলব্লাসারডামে নতুন প্রমোদতরীটি তৈরি করছে ডাচ জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওশিয়ানো। এর পেছনে ৫০ কোটি ডলার খরচ করছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বেজোস, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। তৈরি হয়ে গেলে ৪১৭ ফুট দীর্ঘ প্রমোদতরীটি সাগরে পৌঁছাতে হলে রটারডামের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
সমস্যা হচ্ছে, এই মেগাইয়টের তিনটি মাস্তুলের উচ্চতা শহরটির ঐতিহাসিক কোনিংশেভেন বা ডে হেফ সেতুর নিচের অংশের উচ্চতার চেয়ে বেশি। অর্থাৎ নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় সেগুলো প্রায় ১০০ বছরের পুরনো সেতুতে আটকে যাবে। অথচ ২০১৭ সালে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয়রা প্রতিজ্ঞা করে বসেছেন, সেতুটি আর খুলতে দেওয়া হবে না। রটারডামের মেয়র আহমেদ আবুতালেব অবশ্য বলেছেন, সেতু খোলার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যদি সত্যিই এমনটি হয়, তবে তার ব্যয়ভার বেজোস অথবা ওশিয়ানোকেই বহন করতে হবে।