সেলুনে চুল দাড়ি কাটতে গিয়ে ভিড়ের কারণে অনেককেই বসে থেকে অলস সময় কাটাতে হয়। সেলুনের মধ্যে অপেক্ষমাণ এই লোকদের সময়টুকু কাজে লাগানোর জন্য এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা শহরের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ছাত্র আল আমিন। তিনি সেলুনের মধ্যে মিনি পাঠাগার স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর নাম দিয়েছেন ‘সেলুন পাঠাগার’। এতে করে সেলুনে অপেক্ষারত গ্রাহকরা বই পড়ে সময় কাটাতে পারবেন।
‘পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই’এই সেøাগানকে সামনে রেখে গত ২৯ জানুয়ারি জেলা শহরের ‘নিউ পারসন এক্সক্লুসিভ জেন্টস পার্লারে’ তার প্রথম ‘সেলুন পাঠাগার’ উদ্বোধন করা হয়। মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলওয়ার হোসেন প্রধান আনুষ্ঠানিকভাবে এ পাঠাগার উদ্বোধন করেন। এসময় অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক হাসনুর রশিদ বাবু, ব্যাংক এশিয়া পঞ্চগড় শাখার ব্যবস্থাপক আবদুল হামিদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পঞ্চগড় জেলা শহরের ২১টি সেলুনে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন আল আমিন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের পূর্বশিকারপুর গ্রামের কোহিনুর হকের ছেলে আল আমিন। বই পাগল আল আমিন নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগার’। জ্ঞানভিত্তিক জাতি গঠনে উন্নত সমাজ বিনির্মাণ ও বইয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই তার পাঠাগার স্থাপনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
আল আমিন বলেন, ‘বেশিরভাগ তরুণ শিক্ষার্থী সেলুনে এসে অপেক্ষার সময়টুকু স্মার্ট ফোনে গেম খেলে কাটিয়ে দেন। অনেকে বিরক্ত হন। গ্রাহকরা সেলুনে এসে যেন বিরক্ত না হন এবং অপেক্ষার সময়টা যেন বই পড়ে কাটাতে পারেন এজন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাঠাগারে দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বই সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোথাও আমি ব্যক্তিগতভাবে বুক সেলফ বানানোর মজুরি দিয়েছি। কাউকে মিনি বুক সেলফ বানিয়ে দিয়েছি। আবার কোনো কোনো সেলুন মালিক নিজেই সবকিছু করবেন আমি শুধু বই দেব। পাঠাগারে কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন লেখকের এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু, শিশুতোষ, ইতিহাস ঐতিহ্য পর্যটনের ওপর লিখা ৪০টি করে বই সরবরাহ করা হবে।’ সরকারি বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে সহযোগিতা পেলে পুরো জেলায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
নিউ পারসন এক্সক্লুসিভ জেন্টস পার্লার সেলুনের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমার সেলুনে পাঠাগার স্থাপনের বিষয়ে আল আমিন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমি সেলুনের ভেতরে বুক সেলফ বানিয়ে নিয়েছি। উনি আমাকে মজুরির টাকা দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ।’
সেলুনের গ্রাহক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ সেলুনের একজন নিয়মিত গ্রাহক। আজকে চুল কাটাতে এসে দেখলাম সেলুনে পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এটি দেখে আমি অভিভূত। এখন থেকে মোবাইলে অযথা সময় নষ্ট না করে সময়টা বই পড়ে কাটাতে পারব।’
মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলওয়ার হোসেন প্রধান বলেন, ‘আজকের এ যুগে কমবেশি সবাই ফেইসবুকে পড়ে থাকছে। যদি ফেইস বাদ দিয়ে বুকের দিকে একটু ধাবিত হয়, তাহলেই তাদের চেতনা জাগ্রত হবে। আল আমিনের এ উদ্যোগ সফল হোকএই প্রত্যাশা করি।’