চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চাঁদের গাড়িকে ধাওয়া দেওয়া হাইওয়ে থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) নিখিল জীবন চাকমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্জেন্ট আল আমিনকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশীদুল হক ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত বুধবার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের ফেলাগাজী দীঘি এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় একটি চাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে চাপা পড়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। তারা দুজনই হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে একজন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও আরেকজন দশম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের মধ্যে বুধবার রাতে মিশু আক্তারের দাফন সম্পন্ন করা হয়। আর গতকাল দাফন হয়েছে নিশা মনির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধানবাহী চাঁদের গাড়িটিকে পুলিশের টিআই ও সার্জেন্ট ধাওয়া করলে চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রীকে চাপা দেয় গাড়িটি। এ ঘটনায় বুধবারই স্থানীয়রা ওই টিআইকে মারধর করে ও তার মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেন। সেদিনই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
গতকাল পুলিশ সুপার এসএম রশীদুল হক জানান, ঘটনায় জড়িত থাকায় চট্টগ্রাম জেলা হাইওয়ে পুলিশের টিআই নিখিল জীবন চাকমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্জেন্ট আল আমিনকে ক্লোজ করা হয়েছে পুলিশ লাইনসে।
এদিকে গতকাল চাঁদের গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহত এক শিক্ষার্থীর চাচা। ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল হোসেন বলেন, ‘থানায় মামলা হয়েছে। জিপ চালককে আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।’