নাটকপাড়া এখন বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের নাটকের শেষ মুহূর্তের কাজে তুমুল ব্যস্ত। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও ইউটিউব-ওটিটি মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত নতুন নাটক দেখা যাবে বিশেষ এই দিবসে। তবে মেধাবী নির্মাতা শাফায়েত মনসুর রানা একটু ব্যতিক্রম কাজ নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই তো ৪০ মিনিট বা এক ঘণ্টা ব্যাপ্তির নাটক-টেলিছবি করছে। যারা করছে ভালোই করছে। তাই আমি সচেতনভাবেই শর্টফিল্মকে বেছে নিয়েছি। কারণ ১৫-২০ মিনিটে গল্প বলার এক ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। তাছাড়া শর্টফিল্ম একজন নির্মাতার ফিচার ফিল্ম নির্মাণের এক ধরনের প্রস্তুতিও বলা যায়।’ এবার তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার একটি সিরিজ নির্মাণ করেছেন এই নির্মাতা। নাম দিয়েছেন ‘কে কখন কীভাবে’। কারণ আমার গল্পগুলো কোনো কাহিনীর চেয়ে ভালোবাসার তিনটি মুহূর্তকে ধারণ করে। একটি প্রাপ্তির, একটি বিচ্ছেদের আর একটি কোনোটাই না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার গল্পগুলোতে নায়ক-নায়িকা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদবে না, কিংবা আকাশের দিকে অবাক তাকিয়ে থাকবে না। এটা একেবারেই ২০২২-এর গল্প। এ সময়ের ছেলে-মেয়েরা কী ধরনের প্রেম-ভালোবাসায় বিশ্বাসী, তাদের পাওয়া না পাওয়া, আকাক্সক্ষা, ভুল বোঝাবুঝি, সন্দেহ, বিরহ এসব উঠে আসবে। ভালোবাসা তো শুধু একটি ছেলে আর একটি মেয়ের পরিচয়, প্রেম ও পরিণতির গল্প নয়। আমি চেয়েছি এই প্রচলিত বৃত্তের বাইরে বাস্তব গল্প বলতে। আজকাল আমাদের দেশের ফিকশনে এত অবাস্তব চরিত্র আর দৃশ্য দেখছি। তাই আমার চরিত্রগুলোকে রেখেছি যথাসম্ভব রক্তমাংসের মানুষের মতো করে। ভালোবাসা অনেক বৃহৎ বিষয়। এর অনেক শেড আছে। সেখান থেকে অল্প বিস্তর উঠে আসবে এবারের তিনটি শর্টফিল্মে।’
গল্পগুলো হলো- ‘হট প্যাটিস’, ‘ব্ল্যাক বক্স’ ও ‘অপ্রকাশিত’। ‘হট প্যাটিস’-এ অভিনয় করেছেন সালমান মুক্তাদির ও সাবিলা নূর। গতকাল সন্ধ্যায় এর ডাবিং শেষ হয়েছে। আজ আর আগামীকাল ডাবিং হবে বাকি দুটি গল্পের। তারমধ্যে ‘ব্ল্যাক বক্স’-এ অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও সামিরা মাহি আর ‘অপ্রকাশিত সিনেমা’য় ইরফান সাজ্জাদ ও তাসনিয়া ফারিন। ১৫-২০ মিনিট ব্যাপ্তির স্বল্পদৈর্ঘ্য তিনটি দেখা যাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে। অভিনেত্রী সাবিলা নূর বলেন, ‘গল্পটা ইন্টারেস্টিং। পুরো গল্পের শ্যুট হয়েছে একটা স্পটের মধ্যে। কথোকপথনের ওপরেই গল্পটা। সালমানের সঙ্গে অনেক বছর পর কাজ করা হলো। রানা ভাই আমার পছন্দের একজন পরিচালক।’
শর্টফিল্ম তিনটিতে অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল জানতে চাইলে শাফায়েত মনসুর রানা বলেন, ‘আমি এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে। ভালো একটি কাজে সে যত সময় লাগবে দেবে। ডিরেক্টরের সঙ্গে সব ধরনের কোলাবরেশন করবে। তাই তার সঙ্গে কাজ করতে আলাদা কমফোর্ট কাজ করে। সাবিলাকে আমার বরাবরই ভালো অভিনেত্রী মনে হয়। যদিও সে নিজেকে প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে খুব একটা যায় না। গত বছর করোনাকালীন গল্প নিয়ে যে সাতটি শর্টফিল্মের সিরিজ করেছিলাম তাতে সাবিলাকে নিয়ে প্রথম কাজ করি। এবার দ্বিতীয়বার কাজ হলো। সে প্রচন্ড ডেডিকেটেড একজন আর্টিস্ট। এটা সবচেয়ে ভালোলাগে। ইয়াশ রোহানের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা বরাবরই ভালো। মাহির সঙ্গে প্রথম কাজ, সে একেবারেই নতুন। তাই এখনই তার কাজ নিয়ে কোনো কমেন্ট করা ঠিক হবে না। আমার কাজে ভালোই কাজ করেছে। সালমান মুক্তাদিরের মধ্যে অভিনেতা সত্তাকে একটু হলেও বের করার চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি, পরিচালক তার কাজে দক্ষ হলে শিল্পীদের কাছ থেকে ভালো অভিনয় বের করে আনতে পারেন।’
শাফায়েত আরও বলেন, ‘একজন নির্মাতা সেই শিল্পীর সঙ্গে বেশি কাজ করতে চান যার সঙ্গে তার বোঝাপড়া সবচেয়ে ভালো। আমিও তাই একটা সময় জন কবির আর অপর্ণা ঘোষকে নিয়ে টানা কাজ করেছি। কিন্তু পরে মনে হলো এতে আমি হয়তো ছকের মধ্যে আটকে থাকব। এরপর নতুন নতুন আর্টিস্টের সঙ্গে কাজ করছি।’
নির্মাতা জানালেন, দেরি হলেও এ বছরই সিনেমা হল কিংবা ওটিটির জন্য প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমাটি নির্মাণ করবেন। ব্যক্তিজীবনে নিজেকে একেবারেই রোমান্টিক মনে করেন না এই সুদর্শন নির্মাতা। তার ভাষ্য, ‘আমি মনে হয় একদম রোমান্টিক নই। এখন আমার কোনো প্রেমও নেই। এখন সেই বয়সও নেই যে বছরের পর বছর প্রেম করব। এখন যদি এমন কাউকে পাই যাকে ভালো লাগছে, তাকেই হয়তো এক বছরের মধ্যে বিয়ে করব। তবে আপাতত বিয়ের পরিকল্পনা নেই।’