ফুলের আশ্বাস শুনতে পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

বসন্তের আগমন টের পাওয়া যাচ্ছে প্রকৃতির দিকে তাকালেই। এ এক অপার্থিব সৌন্দর্য! শীতে শীর্ণ গাছগুলো অনেক ঝরিয়েছে পাতা। ফাগুনে একটু ওমের পরশ পেতে গাছের ডালে ডালে উঁকি দিচ্ছে নতুন পাতা, নতুন কুঁড়ি। বসন্তের আগমনে নবপত্রপল্লবে শোভিত হয়ে উঠছে বনরাজি, ফুলের বাগান। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘এলো বনান্তে পাগল বসন্ত/বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায় রে, চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।’

এখন যেন শুধুই অপেক্ষা বসন্তের আগমনের। সম্ভবত দেশে সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয় বসন্তে বা ফেব্রুয়ারিতে। বেচাবিক্রির উপলক্ষও অবশ্য দিবস। এজন্য ফুল ব্যবসায়ীরাও তাকিয়ে থাকেন ফেব্রুয়ারির দিকে। করোনা মহামারী গত দুটি ফেব্রুয়ারির যে দীর্ঘশ্বাস উপহার দিয়েছে, তা এবার ঘুচবে বলে আশাবাদী তারা। বসন্তবরণ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। একাধিক ফুল ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছর বেচাবিক্রি তেমন হয়নি। এবার পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে। বিক্রির নির্দিষ্ট লক্ষ্য জানাতে না পারলেও ব্যাপকহারে ফুল বিক্রির আশা করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে চাষিদের উৎপাদিত ১১ ধরনের ফুলের মধ্যে বাজারে গোলাপ, রজনীগন্ধা, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জিপসি, রডস্টিকসহ বেশ কয়েকটি ফুল পাওয়া যায়। এসব ফুল যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, খুলনার খালিশপুর, ঢাকার সাভারসহ বেশ কয়েক জায়গায় চাষ হয়। সেখান থেকে পাইকারি দরে কিনে সারা দেশের বাজারে তোলেন ব্যবসায়ীরা। সারা দেশে ছোট-বড় ৫ হাজারের বেশি ফুলের দোকান থাকলেও রাজধানীতে পাঁচ শতাধিক। ঢাকার ফুল দোকানের প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ। এর বাইরে ভালোবাসা দিবসে শহরের অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায় বসে অস্থায়ী ফুলের দোকান।

ব্যবসায়ীদের মতে, এবার গোলাপ ফুলের উৎপাদন কম হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দাম থাকবে চড়া। আগে পাইকারিতে প্রতিটি গোলাপ ৫-১০ টাকা দরে কেনা গেলেও এবার লাগছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। খুচরা বাজারে এসে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ১০০ টাকায়। ঢাকায় দিনে ১ কোটি টাকার মতো ফুল বিক্রি হয়। দিবস ঘিরে অন্য সময় বিক্রি ৫০-৬০ গুণ বাড়লেও এবার বড়জোর ১০ গুণ বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ফুলের বাজার শাহবাগে দেখা গেছে, দিবস ঘিরে ফুল বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও আগের মতো ফুলের মজুদ চোখে পড়েনি। অবশ্য সাভারের বিরুলিয়ায় পাইকারদের আনাগোনা দেখা গেছে। বিরুলিয়ার ফুলচাষি নানু মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিবসের জন্য ফুল নিতে আসছেন ব্যবসায়ীরা। করোনার মধ্যেও এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে। কিন্তু ফুল না থাকায় অনেকে ফিরে যাচ্ছেন। এবার বেচাকেনার লক্ষ্যও বলা কষ্ট। যার কাছে ফুল আছে, শুধু সেই বিক্রি করতে পারছেন। সব চাষি আশানুরূপ বিক্রি করতে পারছেন বলা যাবে না।

শাহবাগের মারীসা ফুলঘরের বিক্রেতা মো. লিটন জানান, স্কুল-কলেজ খোলা থাকলে বেশি ফুল বিক্রি হতো। করোনার অনিশ্চয়তায় ফুল এখনো মুজদ করা হয়নি। আগে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস আলাদাভাবে হলেও এবার একদিনেই পড়েছে। ফলে বেচাবিক্রিও এক দিনেরই হবে বলে জানান তিনি।

শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার আগে ফেব্রুয়ারি ঘিরে ব্যবসায়ীদের ফুল বিক্রির লক্ষ্য থাকত। কিন্তু এবার ঠিক কত টাকার ফুল বিক্রি হবে, তার কোনো লক্ষ্য নেই।’ তিনি বলেন, ‘করোনার দুই বছরে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আশা করছি, এবারের দিবসে কিছুটা হলেও ক্ষতি পোষানো যাবে।’