স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়ে চলমান গ্যাস সংকট নিরসন করা সম্ভব। বিদ্যুৎ প্রকল্পে গ্যাসের ব্যবহারের দক্ষতা না বাড়িয়ে, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন না কমিয়ে, ক্লিন এনার্জিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহ না দিয়ে চাপকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সুফল পাওয়ার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হবে না।
গতকাল রবিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক ওয়েবিনারে এমন অভিমত তুলে ধরেন আলোচকরা।
আলোচকরা জানান, গৃহস্থালি, শিল্প, যানবাহন এবং বিদ্যুৎ খাতের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির কারণে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্যাস সংকট মেটাতে সরকার এলএনজি আমদানিকে উৎসাহ জোগাচ্ছে। বাজেট অর্থায়নের সঙ্গে এলএনজি আমদানির তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সংকট নিরসনে এলএনজি আমদানিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না ভাবার পরামর্শ দেন তারা। তাদের মতে, সরকারের উচিত হবে ক্লিন এনার্জি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া। তেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মিশ্রভাবে ব্যবহার বাড়ানো, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়াও দরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী আবদুল্লাহ ফাহাদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) উচিত বর্তমানে যেসব বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পাইপলাইনে আছে সেগুলো পুনরায় পরিদর্শন করা এবং ভবিষ্যতে আর কোনো এলএনজিভিত্তিক বা পেট্রোলিয়ামভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করতে উৎসাহ না দেওয়া।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন তার বক্তব্যে বলেন, স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে এলএনজি আমদানি ছাড়া দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে অন্য কোনো বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা কঠিন মনে হচ্ছে। আবার অন্যদিকে, এলএনজি আমদানির বোঝা কমানোর জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে নিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতকে। সে কারণেই ক্লিন এনার্জি ব্যবহারের জন্য একটি বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করার এটাই মোক্ষম সময়। তিনি আরও বলেন, উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানির কারণে বিদ্যুতের গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। তাছাড়া এলএনজি নির্ভরতা পরিবেশগতভাবে টেকসইও না।
প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ও বুয়েটের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ম তামিন গ্যাস উত্তোলনের ওপর জোর দেন। প্রয়োজন হলে অনশোর গ্যাস উত্তোলনের কাজটি প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বাপেক্স বা বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দেওয়া যায়।