নাটোরের লালপুর উপজেলায় কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইনে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার বিষ্ণুপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার চংধুপল ইউনিয়ের ইসলামপুর গ্রামের রেজার ছেলে মো. রকি (২০) ও একই গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন (২০)।
রেলওয়ে থানা ও স্থানীয়রা জানান, রকি ও সাকিব রবিবার রাতে রেললাইন ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের কানে হেডফোন ছিল। আর মোবাইলে কিছু একটা করছিলেন। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন বিষ্ণুপুরে তাদের কাছাকাছি এলেও টের পাননি। এক পর্যায়ে ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে রকির মৃত্যু হয়। আর সাকিবের শরীর থেকে একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সাকিবকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আবদুলপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার ইমদাদুল ইসলাম জানান, রকিকে গত রাতে এবং সাকিবকে আজ (গতকাল সোমবার) বিকেলে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
রকির মামা মো. কবির হোসেন বলেন, ‘একমাত্র ভাগ্নের এমন মৃত্যুতে বোন-দুলাভাইসহ পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছেন।’
এদিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেললাইনের ক্রসিংয়ে একটি পিকআপ এসে পড়লে খুলনা-চিলাহাটীগামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস তিতুমীরের ধাক্কায় পিকআপের হেলপার লিমন হোসেন (২০) মারা গেছেন। এ সময় পিকআপ চালক দেলোয়ার হোসেন ও মুরগি ব্যবসায়ী মাসুম (২২) গুরুতর আহত হন।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ঝাউপাড়া ভেলাইপাড় রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লিমন উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে। আহত দেলোয়ার ও মাসুমকে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মাসুমের মামা মনজুরুল ইসলাম জানান, রেলগেটের উভয় পাশে বাঁশঝাড় ও জঙ্গল রয়েছে। কোনো গেটম্যানও নেই। সিরাজগঞ্জ থেকে মুরগির বাচ্চা ঝাইপাড়া গ্রামে দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় রেলগেটে পিকআপ নিয়ে উঠে পড়লে ট্রেনটি এসে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই লিমনের মৃত্যু হয়। পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আবদুল্লা আল মামুন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ মামলা করেনি।