সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আক্ষেপ, ‘একটা শতাব্দী…আর কেউ নেই’।
মঙ্গলবার এবিপি আনন্দকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গতরাতে তার কাছে খবর এসেছিল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। মোটামুটি খাচ্ছিলেন। রক্তচাপ ঠিক ছিল। অত্যন্ত নিয়ম মেনে জীবনযাপন করতেন। করোনাভাইরাস থেকেও সেরে উঠেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতার আক্ষেপ, ‘খুব খারাপ লাগছে। এত তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্যের অবনতি হয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি। আচমকা একদিনে কী হয়ে গেল, জানি না। সেটা পরে বুঝতে হবে’। সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যাদি হচ্ছেন আমাদের শেষ সুরের ঝঙ্কার’।
পরে টুইটারেও শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি বলেন, ‘বাংলার সুরের রানি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। তার প্রয়াণে আমাদের সংগীতের জগত, লাখ-লাখ অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরন্তন শূন্যতা তৈরি হল। আমি তাকে দিদি হিসেবে দেখতাম। তার প্রয়াণে আমার বড়সড় ব্যক্তিগত ক্ষতি হল। সাহিত্য অ্যাকাডেমির হৃদয় ছিলেন তিনি। আমরা তাকে বঙ্গবিভূষণ (২০১১ সাল), সংগীত মহাসম্মানের (২০১২ সাল) মতো পুরস্কারে ভূষিত করেছিলাম’।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে। তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। তারপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। পরবর্তীতে করোনা মুক্ত হয়েছিলেন। ক্রমশ শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু আচমকা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
মঙ্গলবার হাসপাতালের মেডিকেল বুলেটিনে জানানো হয়েছিল, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। কমে গিয়েছে রক্তচাপ। পেটের যন্ত্রণাও হচ্ছে। তার জেরে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। রাখা হয়েছিল ভেসোপ্রেসার সাপোর্টে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৭টা ৩০ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তারপর তার মৃত্যু হয়’।