রাতের গভীরে হারালেন সন্ধ্যা, বিদায় আধুনিক বাংলা গানের শেষ প্রতিনিধি

আধুনিক বাংলা গান সাবালক হয়েছিল যাদের কণ্ঠে, তাদের শেষ প্রতিনিধি বলা যেতে পারে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে।

বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা আধুনিক এবং ফিল্মের গান সাবালকত্ব লাভ করেছিল হেমন্ত-সন্ধ্যা বা মান্না-সন্ধ্যা জুটির সৌজন্যে। হেমন্ত-মান্নার পুরুষ কণ্ঠের বিপরীতে বাংলা গানে নারী কণ্ঠের আধুনিকতার মূর্ত প্রতীক সন্ধ্যা।

দীর্ঘ দিনই জনসমক্ষে গান না করলেও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় বেঁচে ছিলেন বাংলা গানের ইতিহাসের জীবন্ত দলিল হয়ে। সেই অর্থে মঙ্গলবার সন্ধ্যার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে আধুনিক বাংলা গানের যুগাবসান হলো। মহাকালের রাতের গভীরে দেহত্যাগ করলেন এই কিংবদন্তি।

শাস্ত্রীয় থেকে শুরু করে লঘু, আধুনিক, নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত এবং সেই সঙ্গে মুম্বাইয়ের হিন্দি সিনেমাতেও সন্ধ্যার গায়কির শৈলী ও অনন্যতার স্মারক উজ্জ্বল হয়ে আলো ছড়াবে।

সন্ধ্যার বড় কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে প্রত্যেকটি শৈলীর গান আপন ভাব অক্ষুণ্ন রেখে নিবেদন করা। যে কারণে ‘এ শুধু গানের দিন’, ‘আমি যে জলসাঘরে’-র মতো ফিল্মের গান কিংবা ‘দিবস রজনী, আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি’-র মতো রবীন্দ্রসংগীত তার কণ্ঠে সমান জনপ্রিয় হয়েছে। গেয়েছেন খেয়াল, ঠুংরি, ভজন, গজল, কীর্তন, ভাটিয়ালি, বাউল। ১৭টি হিন্দি সিনেমায় প্লেব্যাক করলেও বলিউডে স্থায়ী হননি সন্ধ্যা।

সন্ধ্যার উচ্চারণ, অভিব্যক্তি, কণ্ঠের মড্যুলেশন— সব মিলিয়ে বাংলা গানের আধুনিক পর্বটি যাদের মাধ্যমে  পূর্বসূরিদের থেকে পৃথক হতে থাকে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় তাদের অন্যতম। বিভিন্ন ধারার গানে সন্ধ্যার অনায়াস বিচরণ তাকে আরও অনন্য করে তোলে।

জাতীয় পুরস্কার-সহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন সন্ধ্যা। তবে তার সব চেয়ে বড় পুরস্কার হয়তো মানুষের হৃদয়ে তার স্থান। সুরের ঐশ্বর্য সঙ্গে নিয়েই বিদায় নিলেন সন্ধ্যা।