পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রচলন বহুদিনের। সৌদি আরবে উটের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাও হয়ে আসছে অনেক বছর ধরে। এসবে বিজয়ীদের জন্য থাকে মোটা অঙ্কের অর্থ পুরস্কার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লিবিয়ায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো মুরগির সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা। সম্প্রতি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আয়োজন করা হয়েছিল মুরগিদের এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নেয় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিযোগীরা।
রয়টার্সের খবর অনুসারে, প্রতিযোগিতায় মুরগির রং, আকার, দৈহিক গঠন ও পালকের উজ্জ্বলতা দেখে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি শুধু মুরগি পালনকারীদের প্রচারের জন্যই নয়, বরং তরুণদের পাখি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যও আয়োজন করা হয়েছে, যেন তারা দেশটিতে চলমান সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে। দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যার পর থেকে লিবিয়ায় আন্তসংঘাত চরম আকার নিয়েছে। অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ লিবিয়া এখন মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। দেশটির তরুণরা হয় লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন, নয়তো অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
প্রতিযোগিতার সুপারভাইজার খালেদ দিয়াব বলেন, আমরা আকর্ষণীয় সব মুরগি পালনকারীদের সমাবেশ লক্ষ করেছি। এটি চমৎকার একটি পেশা, যা তরুণদের নেতিবাচকতা ও যুদ্ধ থেকে দূরে রেখেছে। আশা করি, সরকার এক্ষেত্রে তরুণদের পাশে থাকবে। দিয়াবের মতে, তাদের আয়োজনে অংশ নেওয়া মুরগিগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেওয়ার যোগ্যতা রাখে।
মুরগির সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা দেখতে যাওয়া তাহের বেলকাসেম নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি জীবনে প্রথমবার এ ধরনের আয়োজন দেখছি। আগে শুধু সাধারণ মুরগির কথা জানতাম। কিন্তু এখানে এসে প্রথমবারের মতো এত ধরনের মুরগি দেখছি। এটি দারুণ উদ্যোগ এবং এর জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ পাওয়া উচিত। লিবিয়ার প্রথম মুরগির সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করেছে মোহান্নাদ জায়েদের ব্রাহমা জাতের একটি মুরগি। এটি সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট পেয়ে জয়ী হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘ব্রাহমা জাতের মুরগিগুলো আকারে অনেক বড় হয় এবং এদের পা হলুদ রঙের। এছাড়াও এর চাহনি ও চকচকে পাখার জন্যও বিখ্যাত।’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মুরগিগুলোর দাম ৫০ থেকে ৮০০ ডলারের মধ্যে। লিবিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওই মুরগিগুলোকে সংগ্রহ করে আনা হয়।