ইতিহাস গড়ছে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একেবারে শেষ মাথায় দিন রাত চলছে কর্মযজ্ঞ। সেখানে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম ব্যক্তিমালিকানায় বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স। ২০১৯ সালে ৫৫ বিঘা জমিতে ক্রিকেট ও ফুটবল স্টেডিয়ামসহ কিছু স্থাপনা নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে দিন যত গড়িয়েছে কমপ্লেক্সের আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ বিঘায়। প্রায় পনের হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ এই ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ে তুলছে দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ।

২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ। তার আগে তড়িঘড়ি তারা গড়ে তুলছে ফুটবল স্টেডিয়াম। কিংস আজ পুলিশ এফসি’র মুখোমুখি হবে নিজস্ব মাঠে। এর মধ্য দিয়ে তারা নাম লিখাবে ইতিহাসে। দেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে তারা খেলবে সত্যিকারের হোম ভেন্যুতে।

নির্মিতব্য বসুন্ধরা কিংস এরেনার সুযোগ সুবিধা সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান। তবে ঘুরেফিরে এসেছে গোটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের গল্প। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অডিও ভিজ্যুয়ালে দেখানো হয় পুরো কমপ্লেক্সের নির্মাণযজ্ঞ। কী হচ্ছে না সেখানে! দুই বড় খেলা ফুটবল ও ক্রিকেটের জন্য হচ্ছে পৃথক চারটি মাঠ (দু’টি আন্তর্জাতিক মানের)। হচ্ছে হকি স্টেডিয়াম। বিশাল ইনডোরে থাকছে জিম, বাস্কেটবল, ভলিবল, টেবিল টেনিসসহ সব ধরনের খেলার সুবিধা। সম্ভাবনাময় দুই খেলা শুটিং এবং আর্চারির জন্য হচ্ছে পৃথক রেঞ্জ। সুইমিং পুল, স্কোয়াশ, টেনিস ছাড়াও ফুটসালের জন্য বসছে একাধিক কৃত্রিম টার্ফ। মেয়ে ফুটবলারদের আলাদা মাঠ আর আবাসন ব্যবস্থাও হচ্ছে সেখানে। আরও হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গলফ কোর্স। এ সব কিছু হচ্ছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্ব দরবারে ভিন্নভাবে চেনানোর লক্ষ্যে। ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের তো গর্ব করার মতো ক্রীড়াক্ষেত্রে তেমন কিছু নেই। এই কমপ্লেক্স হয়ে গেলে বিশ্ব দরবারে গোটা দেশকেই চেনাতে পারব ভিন্নভাবে। আমাদের কমপ্লেক্সে যেসব সুযোগ সুবিধা থাকবে, তা শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, গোটা এশিয়াতেই আছে গুটিকতক ক্লাবের। এটা আমাদের জন্য বিশাল একটা পাওয়া।’ ক্রীড়া স্থাপনার পাশাপাশি কমপ্লেক্সে থাকবে ইকো পার্ক ও ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। চিত্ত বিনোদনের প্রায় সব উপকরণই থাকছে সেখানে। কমপ্লেক্সের মোট ব্যয় সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া গেল ইমরুলের কথায়, ‘নির্মাণকাজের বাজেট ধরা হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে জমির দাম যোগ করলে সেটা ১৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এই কমপ্লেক্স চাইলে সরকার আন্তর্জাতিক যে কোনো আসর আয়োজনের জন্য ব্যবহার করতে পারবে।’

আজ এই মাঠে কিংস মুখোমুখি হবে পুলিশ এফসি’র। আর এই ভেন্যুকে হোম করা আরেক দল শেখ রাসেলের আগামীকালের প্রতিপক্ষ আবাহনী।